গাইবান্ধায় ভাই-বোনকে হত্যায় ৩ সহোদরের ফাঁসি

গাইবান্ধা জেলাগাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চাচাতো ভাই-বোনকে হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলা দায়েরের দীর্ঘ চার বছর পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাস পাওয়া আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ঝিনিয়া গ্রামের হযরত আলী (৩৯), হাফিজার রহমান (৩৬) ও আজিজল হোসেন (৩১)। তারা সবাই মামলার প্রধান আসামি মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন, মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী জরিনা বেগম, হযরত আলীর স্ত্রী গোলেনুর বেগম ও হাফিজারের স্ত্রী মোর্শেদা আকতার। মামলা চলাকালে প্রধান আসামি আবুল হোসেনের মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, পূর্ব ঝিনিয়া গ্রামের মফিজল হকের সঙ্গে তার চাচাতো ভাইদের জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলে আসছিলো। মামলায় আদালত মফিজল গংদের ডিক্রি দিলে তারা জমি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। তবে বিরোধপূর্ণ জমির আইলসহ ভেতরে লোহার গুনার তার ছড়িয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন প্রতিপক্ষ আবুল হোসেন গংরা। ২০১৬ সালের ১২ নভেম্বর ঘটনার দিন সকালে ওই জমিতে যায় মফিজল হকের ছেলে, ছেলের বউ ও ভাতিজাসহ পরিবারের কয়েকজন। এসময় প্রতিপক্ষ তাদের দেখে বাড়ি থেকে সংযোগ দিলে লোহার গুনায় বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে। এতে মফিজলের ছেলে তসলিম, ভাতিজি মর্জিনা, ছেলের বউ জমিলা বেগম ও ভাতিজা আলমগীর হোসেনসহ ছয় জন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তসলিম ও ভাতিজি মর্জিনা বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মফিজল হক বাদী হয়ে গত ১২ নভেম্বর রাতেই সুন্দরগঞ্জ থানায় সাত জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান, মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে সাত আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এরপর আদালতে দীর্ঘ চার বছর সাক্ষী-প্রমাণে এ মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে মামলার তিন আসামিকে ফাঁসির দণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

এদিকে, মামলার রায়ে বাদী পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামির পরিবার-স্বজন ও তাদের পক্ষের আইনজীবী। এ নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী আবুয়ারা মো. সিদ্দিকুর ইসলাম বলেন, ‘মামলার এজাহার ও সাক্ষ্য-প্রমাণে আদালতের সার্বিক পর্যালোচনায় রায় ঘোষণা করা হয়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে অবশ্যই আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।’ দ্রুতই এ নিয়ে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।