প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ওসমানের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামে। তার বাবার নাম রুশমত আলী।
ওসি জানান, গত বেশ কিছুদিন ধরে ওসমান নিজেকে কালীগঞ্জ, শ্রীপুর, টঙ্গী, কোনাবাড়ি ও পূবাইলসহ গাজীপুরের বিভিন্ন থানা ও নরসিংদীর পলাশ থানার ওসি বা ওসি (তদন্ত) হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ধনাঢ্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মোবাইলফোনে কল করে মামলার হুমকি দিতো। মামলার ভয় দেখিয়ে সে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। সম্প্রতি সে কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলামের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়লে মোয়াজ্জেম অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওসমানের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে।
এ ঘটনায় পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি (মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে) ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বাইল থানার মীরের বাজারের (মাজু খান) রেলক্রসিং এলাকা হতে ওসমানকে গ্রেফতার করে। পরে ওসমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার স্ত্রী শিরিন আক্তারের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া তিন লাখ টাকাসহ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইলফোন উদ্ধার করে। শুক্রবার ওসমানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওসি একেএম মিজানুল হক আরও জানান, মীরের বাজার এলাকার আব্দুল আলীর বাড়িতে স্ব-পরিবারে ভাড়া থেকে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ফলের ব্যবসা করতো ওসমান। করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায় মন্দা হলে আর্থিকভাবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সে প্রতারণার পথে নামে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে।