আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের সঙ্গে আজ কিশোর গ্যাং জড়িয়ে পড়ছে। এ থেকে তাদের রক্ষায় খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে হবে, এটি খুব প্রয়োজন। করোনাকালে আমরা যেভাবে স্থবির হয়ে গেছি, এই স্থবিরতা বেশি দিন রাখা যায় না। এই স্থবিরতা কাটানোর জন্য খেলাধুলার কোনও বিকল্প নেই। আমি মনে করি খুব শিগগিরই চট্টগ্রামে লীগের খেলাও আয়োজন করা প্রয়োজন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এর ওয়েভভিত্তিক বিভিন্ন এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাপসগুলোর আসক্তি থেকে তরুণ সমাজকে বের করে আনতে হবে। কিশোর-যুবাদের অবক্ষয়মুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, ছেলেরা এখন আর মাঠে গিয়ে খেলে না। আমাদের ছোটবেলায় আমরা মাঠে গিয়ে খেলার জন্য এবং সন্ধ্যার আগে বাসায় না ফেরার জন্য প্রতি সপ্তাহে বাবা-মার বকা শুনতাম। আর এখনকার ছেলেদের জোর করে ধরে মাঠে পাঠাতে হয়। বিষয়টি উল্টো হয়ে গেছে। আসলে খেলাধুলার কোনও বিকল্প নেই। সে জন্য খেলাধুলার আয়োজনও করতে হবে। আয়োজন না থাকলে তো ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করবে না।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনার কারণে পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের কোথাও করোনার কারণে টুর্নামেন্ট শুরু করা হয়নি । কিন্তু করোনার জন্য জীবন স্তব্ধ হয়ে থাকতে পারে না। আমাদের সবাইকে করোনা মোকাবিলা যেমন করতে হবে, জীবন এবং জীবিকা দুটোই আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, অনেকে জানেন না বঙ্গবন্ধু নিজেও কিন্তু ফুটবল খেলতেন। বঙ্গবন্ধু যখন স্কুলের ছাত্র তখন স্কুল ম্যানেজমেন্টের সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমান। তখন শেখ লুৎফর রহমানের টিমের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন টিমের খেলা হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ায়। সেই খেলায় বাবার টিমকে তিনি হারিয়ে দিয়েছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিজেকেএসের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এতে বক্তব্য রাখেন টুর্নামেন্ট কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম মেহেদী হাসান, সিজেকেএসের সহ-সভাপতি দিদারুল আলম চৌধুরী, এহসানুল হায়দার বাবুল, হাছান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস প্রমুখ।