নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনে আপেল-নৌকা উভয়ই জিতেছে। এখানে আপেল ছিলেন শাসক দলের মনোনীত প্রার্থী। তার প্রতীক ছিল নৌকা। মমিনুর রহমান (আপেল) বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন ৭ হাজার ৫ শত ৬ ভোট পেয়ে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় শুরু হওয়া টানা ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকাল ৫টায়।
নির্বাচনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরমধ্যে আপেলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া। তিনি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭ শত ৪৯ ভোট। এছাড়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইবনে আদেল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১২৩ ভোট। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে ।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার জাকির মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের এই উপনির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৫০ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ৯ হাজার ৩০৫ জন ও পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৪৪৫ জন। উপনির্বাচনে মোট ১২ হাজার ৫৪১ জন ভোটার ভোট প্রদান করেন।
মোট ৯টি ভোটকেন্দ্রের ৪৯টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ করা হয়। একজন জুডিশিয়াল ও পাঁচজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রতি তিন কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ এক প্লাটুন বিজিবি ও র্যাবের তিনটি দল দায়িত্ব পালন করে।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জাকির মাহমুদ জানান, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গড়ে ৬৭ ভাগ ভোট পড়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ১ জানুয়ারি করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হারিস মিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হলে গত ২৯ মার্চ ওই পদে উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত ওই তারিখে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে ১০ অক্টোবর উপনির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়। হারিস মিয়া ওই ইউনিয়নে ২২ বছর ধরে চেয়ারম্যান ছিলেন।