চাতাল থেকে ধরা পড়ে সেই শামীম

গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার সুনামগঞ্জের সেই শামীম।

সুনামগঞ্জে এক নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতন  এবং এ  ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার বৃদ্ধ বাবাকেও সহযোগীদের দ্বারা বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে রড দিয়ে পেটানোর ঘটনার মূল আসামি শামীমকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শামীমকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তার ও অপর ৪ সহযোগীর বিরুদ্ধে রিমান্ড শুনানির কথা রয়েছে।

ডিবি পুলিশের ওসি মো. ইকবাল বাহার জানান, শুক্রবার সকালে তার সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ডিবি পুলিশের দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। সেখানে গিয়ে সোর্স ও প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামির অবস্থান নিশ্চিতের পর অভিযান চালিয়ে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জানান, সরাইল এলাকার চাতাল কলে আসামির এক মামা চাকরি করেন। এলাকাটি ঘনবসতি ও চাতাল শ্রমিক অধ্যুষিত হওয়ার কারণে সে মামার কর্মস্থলে আশ্রয় নেয়। আসামিকে জগন্নাথপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জানা গেছে, থানা পুলিশ আদালতের মাধ্যমে শামীমকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রধান আসামি শামীম এলাকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সে সব সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করতো। তার ভয়ে গ্রামের সুশীল সমাজের লোকজন তটস্থ থাকতেন।

শামীমের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানায় ২০১৯ সালের মাদক দ্রব্য আইনে ও জগন্নাথপুর থানায় চুরি, ছিনতাই,মারামারি, নারী নির্যাতনসহ আরও ৪টি মামলা রয়েছে। সবগুলো মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সে। 

অন্যদিকে, বৃদ্ধকে মারধর ও তার মেয়েকে অপহরণ মামলার  প্রধান আসামি শামীমের ১০ দিন এবং তার সহযোগী লিটন মিয়া (৪৫) ইলাক উদ্দিন (৩৩), আক্কা হোসেন (৩৫), শাহ আলম খান (২৮) কাজল মিয়ার (৩৭)  ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই ফিরোজ মিয়া।

এস আই ফিরোজ মিয়া বলেন, আদালতে আসামিদের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রবিবার রিমান্ড শুনানি হবে।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, শুরু থেকে পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। এজন্য ঘটনার দিন রাত থেকে সকালের মধ্যে ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করে ফেলে। পরে ডিবি কাজল মিয়া  নামের এক আসামিকে গুতগাও গ্রাম থেকে ও শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থেকে প্রধান আসামি শামীম মিয়াকে গ্রেফতার করে।

নির্যাতিতার বাবা জানান, তার তালাকপ্রাপ্ত মেয়েকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আসামি শামীম বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে নির্যাতিতা মেয়েটি বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্ষণ ও  নির্যাতন করতো শামীম। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ওই নারী হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে গৃহপরিচারিকার কাজ নেন। তবে সেখান থেকেও তাকে তুলে নিয়ে যায় শামীম ও তার বাহিনীর লোকজন। এ ঘটনার খবর পেয়ে নির্যাতনের শিকার নারীর বাবা প্রতিবাদ করলে তাকে আলীগঞ্জ বাজারের ভাড়া বাসা ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে আহত করে আসামিরা। এঘটনায় নির্যাতনের শিকার নারী জগন্নাথপুর থানায় শামীমসহ ৬ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।