১০ অক্টোবর শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফেনী শহরের শফিকুর রহমান সড়কের তাসফিয়া ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে বাবুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইউনুস বাবু সোনাগাজীর বগাদানা ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের সওদাগর বাড়ির মো. আবু ইউছুপের ছেলে। বাবু ফেনী আইসিএসটি থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে স্কলারশিপ নিয়ে দেড় বছর ধরে চীনের আহট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলো।
নিহত বাবুর মা রেজিয়া বেগম বলেন, করোনাকালে ছেলে দেশে এসে আমাদের সঙ্গেই ছিল। গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ইউনুস বন্ধু রাকিব ও শাহরিয়াকে বাসা থেকে ডেকে এনেছিলো। একই দিন ভোর ৪টার দিকে তাসফিয়া ভবনের মালিকের স্ত্রী তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য উঠলে সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে আল্লাহ আমাকে বাঁচাও ডাক শুনতে পান। এসময় তিনি আরও দেখতে পান বাড়ির কেয়ারটেকার ও তার ভাগ্নে মেঝেতে পড়ে থাকা রক্ত পরিষ্কার করছে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তার কাছে সন্দেহজনক মনে হলে কেয়ারটেকারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে সেফটিক ট্যাংক থেকে অজ্ঞান অবস্থায় বাবুর বন্ধু শাহরিয়াকে উদ্ধার করা হয়। গলা কাটাসহ তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার সামান্য জ্ঞান ফিরলে বন্ধু বাবুকে খুঁজতে থাকে।
এ ঘটনায় ফেনী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদলগাজী তেমুহানীর রেনু হাজারী বাড়ির নূর আলম রাকিব ও তাসফিয়া ভবনের কেয়ারটেকার দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ জায়লস্কর গ্রামের ফকির হাফেজ বাড়ির মো. সেলিমের ছেলে মোজাম্মেল হক শাহীনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। রাকিব ফেনী পৌরভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি।
বাবুর মা অভিযোগ করেন,তার ছেলে বাবুর কাছে একটি দামী আইফোন এবং তার বন্ধু শাহরিয়ারের কাছে থাকা মোটরসাইকেল আত্মসাৎ করতে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে সেফটিক ট্যাংকে ফেলা হয়েছিলো। তিনি দ্রুত রাকিবকে আইনের আওতায় এনে হত্যা ও হত্যারহস্য উন্মোচন করে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।