হাজিরা দিতে গিয়ে আদালতে হামলার শিকার আসামি, থানায় মামলা

চট্টগ্রাম 

ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আসামিরা আদালত প্রাঙ্গণে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নতুন আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতের সামনে এই ঘটনা ঘটে। সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামি মোক্তার আহমেদ বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জনিয়েছেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) নোবেল চাকমা।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘সুদীপ্ত হত্যা মামলায় আজ আসামিদের হাজিরার দিন ধার্য ছিল। আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় মোক্তারসহ কয়েকজন হামলার শিকার হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। পরে এ ঘটনায় বিকেলে মোক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মাইনুদ্দিন হারুন, মো. ওয়াসিম, আমির হোসেন বাবুসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।’

এর আগে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোক্তারসহ আসামিরা হামলার শিকার হন। হামলায় মোক্তার, আরিফ ও মোক্তারের বন্ধু জাবেদ আহত হয়েছেন।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে মোক্তারের আইনজীবী শাহেদুল আজম শাকিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘মোক্তারসহ ১০ জন আসামি হাজিরা দিতে সোমবার সকালে আদালতে যান। হাজিরা শেষে বের হওয়ার পর আদালত কক্ষের সামনেই ২০-২৫ জন মোক্তারের ওপর হামলা চালায়। এসময় সেখানে থাকা তার কয়েকজন বন্ধু তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও তাদেরকেও মারধর করেন হামলাকারীরা। মারামারির এক পর্যায়ে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে গিয়ে রক্ষা পান। তাদের হামলায় মোক্তারসহ তার দুই বন্ধু আহত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার পর মোক্তার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মোক্তার কোতোয়ালী থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর সকালে নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার নিজ বাসার সামনে নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে পিটিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা নগরীর লালখান বাজার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দিদারুল আলম মাসুমের নাম উঠে আসে। পরে এই মামলায় ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ঢাকা থেকে দিদারুল আলম মাসুমকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।