ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পাল্টিপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছে দুই পরিবার। মৃত গৃহবধূ আরিদা খাতুনের স্বামী ও শ্বশুরের দাবি, তারা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে আরিদার ভাই ও মামা এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের কথা হলো, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলে লাশ ডোবায় গেলো কি করে? আরিদা ও তার দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ তাদের।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার ধর্মগড় ভরনিয়া শেয়ালডাঙ্গী গ্রামে ভোরে তিন জনের মরদেহ ডোবায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা। এরপর ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখন পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। মৃতরা হলেন, গৃহবধু আরিদা খাতুন (৩২) তার কন্যা তৃতীয় শ্রেনির ছাত্রী আখি আক্তার (১০) ও পুত্র সন্তান আরাফাত (৫)।
আরিদার স্বামী আকবর আলী জানান, রাতে সবাই এক বিছানায় ঘুমিয়েছিলাম। সকালে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে না পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে খুঁজতে গিয়েছি। আমি বাড়ি ফেরার আগেই স্থানীয়রা ও আমার বাবা সিরাজুল ইসলাম ডোবা থেকে তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
গৃহবধূর শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম জানান, এর আগেও তার পুত্রবধূ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি থামায়।
নিহত আরিদার ভাই রানা ও মামা আলাউদ্দিন জানান, তিন জনকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য শরিফ জানান বুধবার আকবর আলীর সঙ্গে তার বাবা সিরাজুলের তর্ক-বির্তক হয় । বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির উঠানের নিকটে একটি ডোবায় পানিতে ভেসে ওঠে আকবরের স্ত্রী ও তার দুই শিশু সন্তানের মরদেহ।
ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, আকবর পেশায় ফেরিওয়ালা। পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাণীশংকৈল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তোফাজ্জল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, 'আমাদের কিছুটা সময় দেন। লাশের ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে এবং তদন্ত সম্পন্ন হলে, রহস্যের সব জট খুলবে।'
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে জাহিদ ইকবাল বলেন, 'আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।'