ঠাকুরগাঁওয়ে জামাতা পশিরুলকে হত্যার দায়ে শ্বশুর নুরুল হক (৬০)-কে আমৃত্যু ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিএম তারিকুল কবীর এই রায় প্রদান করেন।
সেই সঙ্গে মামলার অপর আসামি শাশুড়ি মাজেদা বেগম, স্ত্রী নার্গিস বেগম ও শ্যালক মাজেদুল হককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। অপর আসামি শাপলা বেগমের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার উত্তর ফরিদপুর গ্রামের নুরুল হকের বড় মেয়ে সাহেরা খাতুন নির্জন বাড়িতে খুন হলে ওই মামলায় ছোট জামাতা পশিরুল ও তার পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় পশিরুল ছয় মাস হাজতে থাকার পর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাসায় যান। এই ঘটনার জেরে ২০১১ সালের ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় স্ত্রী নার্গিস বেগম তার স্বামী পশিরুল ইসলাম (২৮)-কে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এরপর পরিবারের লোকজন ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক কায়দায় গলা, হাত, পা ইত্যাদি ছুড়ি দিয়ে কেটে কেটে হত্যা করে তাকে।
এই ঘটনায় পশিরুলের বাবা লেদা মোহাম্মদ বাদী হয়ে পরের দিন তার বেয়াই নুরুল হকসহ ছয় জনের নামে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে সরকারি আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ বলেন, 'পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে এই রায় একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।'
অন্যদিকে আসামি পক্ষের স্টেট ডিফেন্স সূত্রে নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জয় জানান, আসামিপক্ষ হতদরিদ্র এবং সামাজিকভাবে নানা অবিচারের মুখোমুখি ছিল। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।