আড়াইহাজারে মাদ্রাসাছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

নারায়ণগঞ্জনারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ফের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিধবা নারীর পর এবার এক মাদ্রাসার ছাত্রী (১৪) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর ব্রাহ্মন্দী রবিন্দ্র বাবুর পুকুর পাড়ের জঙ্গলে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ প্রেমিক নজরুল ইসলামসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে।


গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে রয়েছে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী এলাকার মোতালিবের ছেলে প্রেমিক নজরুল ইসলাম (২৫), তার বড় ভাই বাদল (৩৭) ও একই এলাকার মধ্যপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে মুছা (২৪)।

মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডহর মারুয়াদী এলাকার স্থানীয় মহিলা মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির আবাসিক এক ছাত্রীর সঙ্গে নজরুল ইসলাম নামে এক যুবক নাম পরিচয় গোপন করে ছদ্মনাম (সাগর) ব্যবহার করে মোবাইলফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ১২ অক্টোবর মাদ্রাসার পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করায় ওই কিশোরী গোসলের জন্য বাড়িতে যায়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোরীর মা তাকে পরীক্ষার ফি’র টাকা দিয়ে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন। কিন্তু আধাঘণ্টা পর কিশোরীর মা মাদ্রাসায় খবর নিয়ে জানতে পারে তার মেয়ে মাদ্রাসায় যায়নি। তারপর থেকে ওই মাদ্রাসার ছাত্রী নিখোঁজ ছিল।

পরে জানা যায়, বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়া পথে কিশোরীকে নিয়ে যায় প্রেমিক নজরুল ইসলাম। কিন্তু কথাবার্তার এক পর্যায়ে কিশোরী জানতে পারে নজরুলের আসল নাম সাগর নয়, সে ছদ্মনাম ব্যবহার করে তার সঙ্গে কথা বলেছে। প্রকৃত নাম নজরুল ইসলাম। এতে কিশোরী ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যেতে চায়। এ অবস্থায় নজরুলের বড় ভাই বাদল ও তার এক সহযোগী মুছা ওই কিশোরীর কাছে জানতে চায় তাদের বাড়ি কোথায় এবং কার কাছে এখানে এসেছে। কিশোরীর মুখে কথা শুনে বাদল তার ছোটভাই নজরুলকে শাসিয়ে কিশোরীকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়।

পরে ওই কিশোরীকে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী রবিন্দ্র বাবুর পুকুর পাড়ের একটি জঙ্গলে নিয়ে বাদল ও মুছা ধর্ষণ করে তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে কিশোরী বাড়িতে না গিয়ে অন্যত্র চলে যায়। এদিকে মেয়েকে না পেয়ে কিশোরীর মা আড়াইহাজার থানায় অপহরণ মামলা করেন।

কিশোরীর মা জানান, আমার মেয়েকে নজরুল অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিলো। আমরা প্রথমে থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। পরে জানতে পারি নজরুলের কাছ থেকে ছিনিয়ে তার বড় ভাই বাদল ও তার সহযোগী মুছা আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। আমরা আসামিদের কঠিন শাস্তি চাই।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ভিক্টোরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।