হিলি বাজারে আলু কিনতে আসা আব্দুল করিম ও মেহেদুর ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকার খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও হিলির কোথাও মিলছে না সেই দামে আলু। বর্তমানে গুটি জাতের আলু ও কাটিনাল জাতের আলু ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও আলুর দাম কমে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা আবারও বেড়ে ৪০-৪২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় আলুর এমন দাম বাড়ার কারণে আমাদের মতো খেটে খাওয়া নিন্ম আয়ের সাধারণ মানুষ চরমভাবে বিপাকে পড়েছেন, ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। আলুর দাম বাড়ার কারণে অনেকে কেনাও কমে দিয়েছেন, আগে যেখানে এক কেজি কিনতেন এখন সেখানে হাফকেজি করে কিনছেন। কয়েকদিন কম থাকলেও আবারও আলুর দাম বাড়ছে, তাই আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা, পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে আলু বিক্রির দাবিও করেছেন তারা।
হিলি বাজারের আলু বিক্রেতা নাসির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কয়েকদিন আগে সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় স্টোরগুলোতে আলুর দাম কমতে শুরু করেছিল। এ কারণে একসপ্তাহ আগে আলু কম দামে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে আবারও স্টোরে আলুর দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে। কয়েকদিন আগে পাইকারিতে ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৩৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরাতে আগে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪০-৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে আলুর দাম বাড়ার কারণে চাহিদা কমে গেছে, যে কারণে বেচাকেনাও কমে গেছে। ক্রেতারা খুব একটা আলু কিনতে চাচ্ছে না। আগে যেখানে পাঁচ কেজি কিনতো, এখন সেখানে দুই থেকে আড়াই কেজি আলু কিনছে। তবে প্রশাসন যদি স্টোরগুলোতে নজর দেয় তাহলে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানান তিনি।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাজারে আলুর দামের ঊর্ধ্বমুখী ভাব রুখতে নির্দেশনা মোতাবেক বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করছি ও মাঠ পর্যায়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছি। কেউ যদি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাড়তি দামে আলু বিক্রি করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।