বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আন্দিকোট ইউনিয়ন জুড়ে সোমবার জারি করা ১৪৪ ধারা মঙ্গলবারও বহাল রয়েছে। এদিকে কোরবানপুর ও আন্দিকোটের বর্তমান পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। তবে ফেসবুক স্ট্যাটাসে কমেন্টের জের ধরে সহিংসতার ঘটনায় পৃথক তিন মামলায় কোনও আসামি গ্রেফতার হয়নি।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিষেক দাশ জানান, প্রশাসনের কাছে তথ্য ছিল, কোরবানপুরে সহিংসতার ঘটনা ঘিরে গণজমায়েত বা সভা-সমাবেশ হবে। তাই অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় সোমবার সকাল থেকে আন্দিকোট ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পুলিশের আবেদনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পুলিশ ১৪৪ ধারা উঠিয়ে নেওয়ার আবেদন করলে উঠিয়ে নেওয়া হবে। তা না হলে আন্দিকোট ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য জারি থাকবে।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে কমেন্টের জের ধরে রবিবার (১ নভেম্বর) বিকালে কোরবানপুর গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুটি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, মুরাদনগরের সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কোরবানপুর গ্রামের এক শিক্ষক ও আন্দিকোট গ্রামের এক ব্যক্তি তাদের ফেসবুক আইডি থেকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে ফ্রান্সে প্রদর্শিত ব্যঙ্গচিত্রকে সমর্থন করে মন্তব্য করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের দৃষ্টিগোচর হলে এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
শনিবার রাতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এরপর রবিবার ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার গুজবে পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বন কুমার শিবসহ ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় তিনটি মামলায় আড়াইশ’ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পাঁচ অভিযুক্তকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আরও পড়ুন-