১৭৬টি চালকলের দুই মৌসুমের বরাদ্দ বাতিল

বগুড়াবগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে চাল সরবরাহে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না হওয়ায় ১৭৬টি মিলের (চালকল) শাস্তি হিসেবে এক বছরের তথা দুই মৌসুমের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া চুক্তির ৮০ ভাগের কম চাল সরবরাহকারী ৬১টি চালকলের আনুপাতিক হারে জামানত বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শারমিন ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম সাইফুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়া খাদ্য বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ১৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তালিকাভুক্ত ৪৯৩টি মিলারের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে চুক্তিবদ্ধ হয় ৩১৭ জন। ১৭৬ জন মিলার চুক্তিবদ্ধ হওয়া থেকে বিরত থাকে। এদিকে বর্ধিত সময়ে এ উপজেলায় আট হাজার ৯১৭ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ হয়। পাঁচ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় এ অভিযান সফল হয়নি।

অন্যদিকে সময় বাড়ানোর পরও চাল সরবরাহ না করায় উপজেলা খাদ্য অফিস ১৭৬টি চালকল কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে ১৭৬টি চালকল মালিককে ২০২০-২১ এক বছরের তথা দুই মৌসুমের বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এছাড়াও আংশিক চাল বিতরণ করায় পাঁচ জন ও চুক্তিবদ্ধ হয়েও ৫৬ জন চাল সরবরাহ না করায় মোট ৬১ জনের জামানত বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুপচাঁচিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কেএম গোলাম রব্বানী এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম সাইফুল ইসলাম জানান, বগুড়া জেলায় মোট ১৯৬০ জন মিলার। এর মধ্যে এক হাজার ৫৫৬ জন চুক্তি করে চাল সরবরাহ করে। ২৪৮ জন চুক্তি করেও চাল না দেওয়ায় তাদের এক মৌসুমের জন্য বরখাস্ত অর্থাৎ বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া চুক্তি না করায় ৪০২ জনকে দুই মৌসুমের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।