জানা যায়, করোনাভাইরাস দেশে আঘাত হানার আগে টাঙ্গাইলে গাড়ির ডেনটিংয়ের (মেরামত কাজ) কাজ করতো কামাল। করোনার ছুটিতে বাড়িতে আসার পর আর কাজে ফেরা হয়নি তার। গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার কাজের কথা বলে ঢাকা যেতে বলে তার পূর্বপরিচিত বন্ধু ও সদরপুর উপজেলার বাবুরচর ইউনিয়নের ওহাব মাতুব্বরের ছেলে জুয়েল (৩৫)। পরে ২৪ অক্টোবর শনিবার সকাল ৯ টার দিকে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন কামাল। গোপালপুর ঘাটে বন্ধুদের সঙ্গে নাস্তা করে স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হন তিনি। সেসময় সর্বশেষ ছোট বোনের সঙ্গে কথা হয় তার।
পরে রাতে ফোন দিলে তার বন্ধু জুয়েল আর ফোন ধরেনি। পরদিন সকালে জুয়েল জানায় কামাল তাদের সঙ্গে যায়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) কামালের নম্বরের ফোন থেকে কল করে কুষ্টিয়া থেকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে কামালকে ছাড়িয়ে নিতে বলে অজ্ঞাতনামা একজন। মঙ্গলবার দাবি না মানায় ফোন করে গালিগালাজ করে ওই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। এসময় কামালের বাবা থানায় একটা প্রাথমিক অভিযোগ করেন। এর পর কামাল ও জুয়েল সবার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কামালের মা বলেন, ‘কাজের কথা বলে আমার ছেলেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে জুয়েল। আমার একমাত্র পোলা, ওকে ছেড়ে আমারা কীভাবে থাহুম। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।’
কামালের বাবা মোশারফ ফকির জানান, আমার ছেলেকে ডেকে নেয় জুয়েল, এখন সে আর কামালের কোনও খোঁজ দিতে পারে না। আবার শুনেছি ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন খানম জানান, অপহরণের ঘটনাটি সত্য, এ বিষয়ে জুয়েলকে আসামি করে পেনাল কোর্ট ৩৪৪, ৩৬৫ ও ৩৮৫ ধারায় মামলা করেন নিখোঁজ কামালের বাবা মোশারফ ফকির। আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে ও কামালের খোঁজ চলছে বলে জানান তিনি।