আহত প্রধান শিক্ষক মেলান্দহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পেটানোর কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সমর্থকরা। এতে ওই স্কুলে ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক মঞ্জু অভিযোগ করেন, সভাপতি প্রার্থী খলিলুর রহমান সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। তিনি শ্যামপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতিও। এর আগেও তিনি দুই বার সভাপতি ছিলেন। এবারও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য লবিং করছিলেন। কিন্তু বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী তিনি সভাপতি হতে পারেন না। এতে তিনি আমার ওপর প্রতি ক্ষিপ্ত হন। শনিবার তার নির্দেশে ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ও সাঙ্গপাঙ্গরা অফিসে ঢুকে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে আমাকে বেধড়ক পেটায়। এরপর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযুক্ত খলিলুর রহমান বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। পরে শুনেছি। যতটুকু জেনেছি, একহাতে তালি বাজে না। কমিটি গঠন নিয়ে দাতা সদস্যের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ ছিল। এ থেকেই ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযুক্ত আবু তাহের বলেন, আমার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ মিথ্যা। আমি পিটিয়েছি প্রমাণ দিতে পারলে যে কোনও শাস্তি মাথা পেতে নেবো।
এ বিষয়ে উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিন্নাহ মিয়া বলেন, আমি এ বিষয়ে শুনেছি। খোঁজখবর রাখছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আসাদুল্লাহ ফারাজী বলেন, প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করীম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। অফিস কক্ষে হামলাকারীদের ঝুলানো তালা পরিবর্তন করে অন্য তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও কোনও মামলা দায়ের হয়নি।
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামিম আল ইয়ামিন বলেন, ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এল জানান তিনি।