জুয়েলকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ছাই: আরও ৪ আসামি গ্রেফতার

আবু ইউনুস শহিদুন্নবী জুয়েল 
লালমনিরহাটে আবু ইউনুস মো. শহিদুন্নবী জুয়েলকে কোরআন শরীফ অবমাননার গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আরও ৩ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আরেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের মামলাতেও গ্রেফতার দেখানো হয়। পাটগ্রাম থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে এ চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. ফেরদৌসী বেগমের আদালতে তাদের সোপর্দ করা হয়। আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। লালমনিরহাট কোর্ট পুলিশ ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের ওসি ওমর ফারুক বলেন, বুড়িমারী সোনারভিটা এলাকার মাইনুল ইসলাম (২৬) পুলিশের ওপর হামলার মামলাসহ ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর মামলায় এবং হাসানুর রহমান (২৫),  আব্দুর রহিম (২২) ও সোহেল রানা (২০) কে হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।                                           

জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, আবু ইউনুস মো. শহিদুন্নবী জুয়েলকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ছাই করার ঘটনার বিষয়ে আমরা সুড়ঙ্গপথের শেষ প্রান্তে যেতে চাই। এখন পর্যন্ত ২৮ জন আসমি গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই দফায় ৯ জন আসামিকে তিন দিন করে পুলিশি রিমান্ড নেওয়া হয়। এরমধ্যে খাদেম জোবায়েদ আলী ওরফে জুবেদ আলী ও মেহেদী হাসান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া আব্দুল গণি ওরফে গণি কবিরাজ নামে অপর একজন আসামিও স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা এক নম্বর আসামি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন আলীকে লালমনিরহাটে আনা হয়েছে। সোমবার তাকে লালমনিরহাট আদালতে সোপর্দ করে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।  

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন শরিফ অবমাননার গুজব ছড়িয়ে আবু ইউনুস মো. শহিদুন্নবী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ছাই করার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা রুজু করা হয়। এতে ১১৪ জনকে এজাহার নামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত শত শত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।  এখন পর্যন্ত ৯ দফায় ২৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।