স্কুলে অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

 

বগুড়াবগুড়ার সোনাতলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিখন ফল মূল্যায়নে অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণে তাদের থেকে বিনা রশিদে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের বকেয়া বেতন ও সেশন ফি পরিশোধে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষা বিভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের থেকে প্রশ্নপত্র ফটোকপিসহ নানা অজুহাতে বিনা রশিদে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করোনার কারণে কর্মহীন ও স্বল্প আয়ের অভিভাবকরা বেকায়দায় পড়েছেন। তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বালুয়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বন্ধন, রানা মিয়া, ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী বিপ্লব, আব্দুর রাকিব, আব্দুল হাকিম জানায়, শিক্ষকরা অ্যাসাইনমেন্ট ফটোকপির জন্য ১০০ টাকা করে নিচ্ছে।

কর্পূর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আকলিমার দরিদ্র বাবা ফিরোজ মিয়া জানান, বিভিন্ন অজুহাতে স্কুলে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু তার পক্ষে ওই টাকা দেওয়া কঠিন।

বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আকতারের মা শাহানা বেগম জানান, তার স্বামী একটি মামলায় জেলে রয়েছেন। এ অবস্থায় শিক্ষকরা মেয়ের সেশন ফিসহ ১১০০ টাকা দাবি করেছেন। তিনি মঙ্গলবার স্কুলে ৫৫০ টাকা জমা দিলেও তাকে ৪৪০ টাকার রশিদ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারাজুল ইসলাম জানান, অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ প্রতি বিষয় ১০ টাকা করে ১৮ বিষয়ের জন্য ১৮০ টাকা এবং অতিরিক্ত আরও ২০ টাকাসহ ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

ছাত্রী সাদিয়া আকতারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বকেয়া রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হয়েছে। রশিদে ১০০ টাকা কম উল্লেখের বিষয়টি তিনি অবগত নন। এ জন্য তিনি শ্রেণি শিক্ষককে দায়ী করেন।

বালুয়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ জানান, অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন ও বেতন বাবদ এ পর্যন্ত ২২ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। বালুয়াহাট রাবেয়া রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ সুলতানা জানান, এ পারপাস শিক্ষার্থী প্রতি ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, এ বিষয়ে সরকারি পরিপত্র বা নির্দেশনা ইতিপূর্বে না পাওয়ায় তারা টাকা গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিপত্র পাওয়া গেলে প্রয়োজনে আদায় হওয়া টাকা পরের বছরে বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজার রহমান বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের জন্য মূল্যায়ন, বকেয়া বেতন, সেশন ফিসহ আনুষাঙ্গিক কোনও অর্থ গ্রহণ করা যাবে না। এ এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।