মায়ের মৃত্যুশোক সইতে না পেরে দুই মেয়ের মৃত্যু

পঞ্চগড়

মা পঞ্চমী বেওয়ার (৯০) মৃত্যুশোক সইতে না পেরে দুই মেয়েও মারা গেছেন। পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের কুমারপাড়া খলিফাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। মৃতরা হলেন-পঞ্চমীর ছোট মেয়ে চৈতি রানী (৩০) ও বড় মেয়ে স্বরজনি বালা (৫০)।

বুধবার (১১ নভেম্বর) সকালে পঞ্চমীর দুই মেয়ের স্বামীর বাড়ি এলাকায় সৎকার সম্পন্ন হয়েছে।

চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল জানান, গত মঙ্গলবার বার্ধক্যজনিত কারণে ওই এলাকার রাম কিশোর বর্মণের স্ত্রী পঞ্চমী বেওয়া (৯০) মারা যান। তাকে দেখতে তার ছয় মেয়েসহ স্বজনরা বাসায় আসেন। মায়ের মৃত্যুতে তার সন্তানেরা দিনভর কান্নাকাটি করেন। বিকালে পঞ্চমীর লাশ বাড়ির পাশের শ্মশানে সৎকার করা হয়। সব অনুষ্ঠানে শেষে বাড়ি ফেরার সময় পঞ্চমীর ছোট মেয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ফাড়াবাড়ি এলাকার পলাশ চন্দ্র রায়ের স্ত্রী চৈতি রানী (৩০) বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং কিছুক্ষণ পরেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তার বড় বোন বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার সুশীল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী স্বরজনি বালাসহ স্বজনরাও সঙ্গে যান। যাওয়ার পথে স্বরজনি বালাও বুকে ব্যাথা অনুভব করেন এবং একইভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জাকারিয়া হাবিব জানান, পঞ্চমী বেওয়া মারা যাওয়ার পর মায়ের মৃত্যুতে মেয়েরা অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন। মায়ের মৃত্যু শোক সহ্য করতে না পেরে অতিরিক্ত শোকে তাদের মৃত্যু হতে পারে। মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. রাকিবুল আলম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল। তাদের হৃদরোগ থাকতে পারে। মায়ের মৃত্যু শোক সহ্য করতে না পেরেও এমনটি হতে পারে।