রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন এমপি বলেছেন,‘ভারতের হলদিবাড়ি থেকে বাংলাদেশের চিলাহাটি পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর অথবা কাছাকাছি সময়ে এই পথটি (চিলাহাটি-হলদিবাড়ি) উম্মুক্ত হবে। প্রথম অবস্থায় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে। ঢাকা থেকে যেমন কলকাতা পর্যন্ত মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং খুলনা থেকে কলকাতা পর্যন্ত বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে তেমনি করে ঢাকা থেকে আরেকটি ট্রেন ভারতের শিলিগুড়ি পর্যন্ত চিলাহাটি-হলদিবাড়ি পথ ধরে যেন চলাচল করতে পারে সেটি আমাদের পরিকল্পনায় আছে। ভারত সরকারের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আমরা আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে যাত্রীবাহী আরেকটি ট্রেন চালু করার আশা করছি।’
শনিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে নীলফামারীর চিলাহাটিতে ভারত-বাংলাদেশ রেললাইন সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে রেলপথমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘যমুনা নদীর ওপর দেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু তৈরি করা হবে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে আগামী ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে। দেশের দ্বিতীয় ওই রেল সেতু হবে ডুয়েল গেজ ও ডাবল লাইনের। এটি দিয়ে একশ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের পর রেলপথের উন্নয়নে কাজ করছেন। আগামী ২০৪৫ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক রেল ইঞ্জিন দিয়ে রেল চলবে। পৃথিবীর উন্নতমানের আধুনিক ট্রেন চালু করা হবে।’
মন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিলাহাটি রেল স্টেশন এলাকায় স্টেশনের মূল ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি রেলের গ্যাংকার যোগে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি সীমান্তের শূন্য (জিরো) রেখা পর্যন্ত যান। সেখানে তিনি প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি সেখান থেকে চিলাহাটি স্টেশনে ফিরে আসেন।
দুই দেশের সীমান্ত রেখায় দীপাবলী উপলক্ষে ফুলের তোড়া ও মিষ্টি দিয়ে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষে এসি সিদ্ধার্থ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চিলাহাটি রেল স্টেশন চত্বরে ওই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণে সরকারের ব্যয় হয় ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। বাংলাদেশ অংশে রেলপথ নির্মাণ কাজ শেষে গত ২৭ অক্টোবর ওই পথের জিরো রেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ইঞ্জিন সফলভাবে পরীক্ষামূলক চলাচল করে। বাংলাদেশ অংশে রেললাইন স্থাপনের কাজটি করছে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
অপরদিকে, হলদিবাড়ি থেকে ভারতীয় সীমান্তের ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের কাজ শেষ করে গত ৮ অক্টোবর ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের অংশে শূন্যরেখা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক রেলের একটি ইঞ্জিন চালায়।
অবিভক্ত ভারতের রেল যোগাযোগের এটি অন্যতম প্রধান পথ ছিল। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এটি চালু ছিল। পাক-ভারত যুদ্ধের পর সেটি বন্ধ হয়। সেই রেল যোগাযোগটি ৫৫ বছর পর চালু করতে উদ্যোগ নেয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম, ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মামুনুল হক, পশ্চিমাঞ্চল রেলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক সহিদুল ইসলাম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন, ডোমার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক সরকার, রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রহীম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান সিহাব প্রমুখ।