মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে খালাসচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহ নেওয়াজ খালেদ। গ্রেফতার ৫ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
গ্রেফতার ৫জন হলেন- সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান খান এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম মওলা খান, তার ছোট ভাই গোলাম রসুল খান, জাল ওয়েবসাইট ডেভেলপার আবুল খায়ের পারভেজ, মো. আতিকুর রহমান রাসেল ও রাহাত হায়দার চৌধুরী রানা।
মুহাম্মদ শাহ নেওয়াজ খালেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে পণ্য খালাসের চেষ্টার ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী শুল্ক কর্মকর্তা সুজয় দেবনাথ বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২২ (২) ও ২৩ (২) এবং দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর আমরা অভিযান চালিয়ে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৫জনকে গ্রেফতার করি। তাদের মধ্যে তিনজন আগে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুইজন আজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, ঢাকার মেসার্স সিয়াম এন্টারপ্রাইজ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ১৩ হাজার ৫২০ কেজি চীনাবাদাম ও ৪ হাজার ৫১০ কেজি জলপাই এর তেল আমদানির ঘোষণা দিয়ে মালয়েশিয়া থেকে চালানটি নিয়ে আসেন। গত ২৩ এপ্রিল তাদের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের খান এন্টারপ্রাইজ চালানটি খালাসের জন্য ২৩ এপ্রিল কাস্টমস হাউসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। কিন্তু গোপন সংবাদে সন্দেহজনক পণ্যের উপস্থিতির তথ্য থাকায় কাস্টমসের এআরআই শাখা চালানটির খালাস স্থগিত করে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করেন। কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘোষণা দেওয়া পণ্য আমদানি না করে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ শুল্কের ২১ হাজার ৬০ কেজি শিশুখাদ্য গুঁড়োদুধ নিয়ে এসেছেন। পরে এ ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মিথ্যা ঘোষণার অপরাধে আমদানিকারককে মোট ৭৬ লাখ টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি জরিমানা দিয়ে খালাস করতে হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ক্লিয়ারেন্স পারমিট’ বা ছাড়পত্র নেওয়ার শর্ত জুড়ে দেন। কিন্তু এখানেও জালিয়াতির আশ্রয় নেয় মেসার্স সিয়াম এন্টারপ্রাইজ। গত ১১ অক্টোবর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নকল ক্লিয়ারেন্স পারমিট কাস্টমসে দাখিল করে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের আদলে একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে তারা। পরে ওই নকল ছাড়পত্রে তৈরি করা সেই ভুয়া ওয়েবসাইটের ঠিকানাও লিখে দেয়।
ঘটনার পর কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার নূর-এ হাসনা সানজিদা অনুসূয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা ক্লিয়ারেন্স পারমিট নিয়ে শুরুতেই তাদের সন্দেহ হয়। তখন আমরা ক্লিয়ারেন্স পারমিটে যে ওয়েবসাইটের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে সেটি যাচাইবাছাই করে দেখি ওয়েবসাইটটি ভুয়া। ওই ছাড়পত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যে উপসচিবের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, আমরা উনার সঙ্গে কথা বলি। উনি জানিয়েছেন, ওই ক্লিয়ারেন্স পারমিটটি ভুয়া। এ ধরনের কোনও ছাড়পত্রে তিনি স্বাক্ষর করেননি।’