চট্টগ্রামে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হামলার শিকার, গাড়ি ভাঙচুর

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 
মীরসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন হামলার শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের নিজামপুর কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে।  গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আউয়াল তুহিন অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা গিয়াস উদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এসময় তারা গিয়াস উদ্দিনের গাড়ি ভাঙচুর করেন।

তারা এ ঘটনার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অনুসারীদের দোষারোপ করছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা।

গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দূরত্ব রয়েছে। এক সময়  ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন গিয়াস উদ্দিন। ২০১২ সালের দিকে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দুইজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। এরপর থেকে মীরসরাইয়ে আওয়ামী লীগে মোশাররফ এবং গিয়াসের নেতৃত্বে দু’টি পৃথক ধারা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মীরসরাইয়ের পার্শ্ববর্তী সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আউয়াল তুহিন ফেসবুকে পোস্ট দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপ বুধবার গভীর রাতে মীরসরাই উপজেলার নিজামপুর এলাকায় তুহিনের বাসায় হামলা চালায়। তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে গিয়াস উদ্দিন যান তুহিনের বাড়িতে। সকাল ৮টার দিকে সেখান থেকে ফেরার পথে নিজামপুর কলেজের সামনে তার পথরোধ করে ১৫-২০ জন যুবক। তারা অতর্কিতভাবে গিয়াসের পাজেরো গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তার ওপর হামলা চালায়।

মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উনাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কী কারণে কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে আমরা খতিয়ে দেখছি।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তুহিনকে দেখে শহরের আসার জন্য মাত্র গাড়িতে উঠবো এসময় ১৫-২০ জন যুবক আমার গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগে তারা আমার ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা লাঠিসোঁঠা, লোহার রড, রামদা দিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে। স্থানীয় সংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অনুসারী ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বর্তমানে গিয়াস উদ্দিন চমেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সঙ্গে হাসপাতালে থাকা ছাত্রলীগ কর্মী মহসীন ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গিয়াস উদ্দিনের কাঁধে দায়ের কোপ লেগেছে। এছাড়া তার পিঠে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে।

গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গিয়াস সাহেবের ওপর হামলা হয়েছে শুনেছি। খবর নিয়ে আমরা যতটুকু জেনেছি এখানে ব্যক্তিগত ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। যারা হামলা করেছেন তাদের কেউ দলীয় কোনও পদে নেই।