কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ বরাবর লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ নভেম্বর টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর কারণে সভাপতির পদটি শূন্য হয়ে যায়। ওই শূন্য পদে একটি অসাধু চক্র ও একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত এম এ জহির নামে এক বিতর্কিত ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করতে তোড়জোড় শুরু করেছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ ছাড়াও দলীয় হাই কমান্ডেও তদবির শুরু করেছে চক্রটি। এম এ জহিরের বিরুদ্ধে জাল, প্রতারণা ও পরিবারে ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি থাকা কালে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করে বক্তব্য রাখার অভিযোগ রয়েছে। তার ওই বক্তব্যের কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি করেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় সংগঠনের সহ-সভাপতির পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে দলীয় কোনও কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা নেই। এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হলে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুল বশর বলেন, ‘বর্তমানে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সংগঠিত। এ অবস্থায় এম এ জহিরের মতো সুবিধাবাদী, সংগঠন বিরোধী, প্রতারক, বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলের সমর্থন না দিতে দলীয় হাই কমান্ডে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আমরা চাই, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগে যেন কোনও ধরনের ইয়াবাকারবারি ও অসাধু চক্র অনুপ্রবেশ না করে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে এম এ জহির বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। টেকনাফে পরিচ্ছন্ন কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকলে সেটি আমি একজন। আমি কীভাবে অন্যের জমি বিক্রি করতে যাবো। এটি কি সম্ভব?’
তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের আগামী সভায় জেলার নেতৃবৃন্দ টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। সেখানে আমার নাম প্রস্তাব আসতে পারে মনে করে বর্তমান টেকনাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমি ও আমার পরিবারের কেউ ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। আমি ৩০ বছর ধরে ইয়াবা ও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছি।’