বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পলাশবাড়ি উপজেলা হল রুমে ১৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সারোয়ার প্রধান বিপ্লবকে বেসরকারিভাবে মেয়র ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. আবদুল মোত্তালিব।
এছাড়া একই সঙ্গে পৌর এলাকার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে তিন জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে আট জনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। যদিও এরআগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন দুই হাজার ৯৩৬ ভোট, জাতীয় পার্টির মজিবুর রহমান পেয়েছেন ৬১৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম দুদু পেয়েছেন ৩৬১ এবং অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ইসলাম পেয়েছেন তিন হাজার ২৭১ ভোট।
নির্বাচিত মেয়র গোলাম সারোয়ার প্রধান বিপ্লব পলাশবাড়ীর জামালপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম সাকোয়াত জামান প্রধান বাবুর ছেলে। গাইবান্ধা জেলার বাস-মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার প্রধান বিপ্লব পলাশবাড়ী উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
মেয়র নির্বাচিত হয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বিপ্লব বলেন, নির্বাচনে এ জয় হাজার-হাজার মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রকাশ। জনগণের এই ভালোবাসার প্রতিদানে সার্বক্ষণিক পৌরবাসীর পাশে থাকাসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।
এরআগে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে সকাল ৮টায় পৌর এলাকার ১৬টি ভোট কেন্দ্রের ৯৪টি কক্ষে ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ৩১ হাজার ৬০২ জন ভোটারের মধ্যে ২৩ হাজার ৩৭৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ১৬ কেন্দ্রে প্রাপ্ত ভোটে শতকরা হার ৭৩.৯৭।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে পলাশবাড়ি পৌরসভা বাস্তবায়ন হলেও কিশোরগাড়ি, বরিশালসহ তিন ইউনিয়নের সীমানা নিয়ে আইনি জটিলতায় আটকে যায় নির্বাচন। অবশেষে দীর্ঘ ১৮ বছর পর গত ৩ নভেম্বর পলাশবাড়ি পৌরসভায় প্রথমবারের মতো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনার (ইসি)।