মৌলবাদী গোষ্ঠীর টাকা রোজগারের পথ বন্ধ করতে হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা ও বিরোধিতাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর কুষ্টিয়ায় জাতির পিতার ভাস্কর্য ভেঙেছে মৌলবাদী গোষ্ঠী। কিন্তু তারা গায়ের জোরে ভাস্কর্য ভাঙতে পারবে না। আপনারা বাঁশের চটির বেড়াও ভাঙতে পারবেন না। ভাঙাভাঙি করলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের দাবি এসব কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হোক। মৌলবাদী গোষ্ঠীর টাকা রোজগারের পথ বন্ধ করতে হবে। তাদের টাকা কীভাবে খরচ হয় তা দেখতে হবে।

শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সদর উপজেলার রাধানগর গ্রামের মাঠে জেলা পরিষদ ও সদর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সুনামগঞ্জের উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল হুদা মুকুটের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল কালাম, সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য আলী হোসেনসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সমাবেশে স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একটি মহল গুজব ছড়াচ্ছে আমি নাকি সুনামগঞ্জ জেলা শহরকে শূন্য করে সব প্রতিষ্ঠান শান্তিগঞ্জে নিয়ে যাচ্ছি। এটি একদম মিথ্যে কথা, আমি কোনও কিছুই নেইনি। জেলার সবচেয়ে বেশি মানুষ যেখানে প্রতিষ্ঠান করলে উপকারভোগী হবেন সেখানেই নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে আমার কোনও হাত নেই। আমি বিনা দাওয়াতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে তাদের সঙ্গে কথা বলে ভবন তৈরির প্রকল্প গ্রহণ করতে বলি। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এত আলোচনা এর নাম সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এর নাম শান্তিগঞ্জ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নয়। স্বাধীন দেশের নাগরিক যেকোনও প্রস্তাব দিতে পারেন। আমার বিচারে মনে হয়েছে শান্তিগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উপযোগী জায়গা। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে কোনও ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নষ্ট করতে হবে না, বন্যামুক্ত উঁচু জায়গা তাই প্রস্তাব করেছি।

তিনি এসময় অভিযোগ করেন, আমাকে নানা ধরনের অপবাদ দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় থেকে মন্ত্রীর উন্নয়ন কাজে দলের এমপিরা বাধা দেবেন, এমন উদাহরণ দেশে নেই। এলাকার সেতু, কলেজ, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ তৈরি নিয়ে বাধা দেওয়া উচিত না। আমি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য আসিনি। আমার মনের দুঃখ দূর করলাম। আমি কোনও ষড়যন্ত্র করি নাই। উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমি কোনও পক্ষপাতমূলক আচরণ করি নাই। আমি সব কিছু দক্ষিণ সুনামগঞ্জে নিয়ে গেছি, এমন প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।

এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট অভিযোগ করেন, সারা দেশে জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে জেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে মিছিল সমাবেশ করেছে। কিন্তু সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কোনও কর্মসূচি পালন করেনি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকায় বসে রাজনীতি করছেন। এজন্য তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবি তোলেন।

সুধী সমাবেশে বক্তারা ডলুরা শুল্ক স্টেশন, সীমান্ত সড়ক, স্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ, হাওরে উড়াল সড়ক, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও রেশন, শাল্লায় সড়ক নির্মাণ, সুরমা নদীতে হালুয়াঘাট সেতু নির্মাণ, বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন উন্নয়নের দাবি তুলে ধরেন।