আন্তর্জাতিকভাবেও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

বক্তব্য দিচ্ছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীনৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী শুধু জাতীয়ভাবেই না, আন্তর্জাতিকভাবেও পালন হচ্ছে। এর চেয়ে গর্বের কী হতে পারে, যখন আমাদের নেতাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংস্থা জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয়। তাকে সম্মানীত করে। তখন আমরাও সম্মানীত হই।’ সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে দিনাজপুরের বিরল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং বিরল পাক হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণবঙ্গ সারাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। পদ্মা সেতু হচ্ছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ৩২তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক প্ল্যান্টের অধিকারী দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে যে সম্মান ও উচ্চতায় আমরা যাচ্ছি তার একমাত্র কারণ বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ডিসেম্বর মাসে বিজয় অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। সেই বিজয়ের মাসেই তাকে খাটো করার চেষ্টা চলছে, বঙ্গবন্ধুর উপর আঘাত হানার চেষ্টা হচ্ছে। বিজয়ের মাসে বঙ্গবন্ধুকে হেয় করে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হেয় করা যাবে না, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্ক করা যাবে না। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পরে খুনিরা ভেবেছিল, বঙ্গবন্ধুর নাম বাংলাদেশে আর উচ্চারিত হবে না। মনে করেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে এই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর কেউ জানবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে তারা হত্যা করতে পারেনি, মুক্তিযুদ্ধকে আড়াল করতে পারেনি, স্বাধীনতার ইতিহাসও মুছে ফেলতে পারেনি।’

বিরল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জাবের মো. সোয়াইবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন– বিরল পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সবুজার সিদ্দিক সাগর, সাধারণ সম্পাদক রমাকান্ত রায়, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক উপজেলা কমান্ডার আবুল কাশেম অরু প্রমুখ।

এর আগে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।