নীলফামারীতে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপির গাড়িবহরে হামলা ও চার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হত্যা ঘটনার সাত বছর পূর্তি হলো। সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) ঘটনার সাত বছর অতিবাহিত হলেও ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলায় ২০৬ জন আসামির মধ্যে সকলেই জামিনে আছেন। প্রায় তিন বছর ধরে মামলাটি চার্জ গঠনের অপেক্ষায় পড়ে আছে । দীর্ঘ সময়েও মামলার তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকালে জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে সংস্কৃতিমন্ত্রী জামায়াত-বিএনপির হামলার শিকার হন। এসময় জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা নূরের গাড়ি বহরে হামলা ও আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মীকে হত্যা করেন।
নিহতরা হলেন টুপামারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী, টুপামারী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন শাহ্, তার ছোট ভাই মুরাদ হোসেন শাহ্ ও আওয়ামী লীগ কর্মী লিটন হোসেন লেবু।
ওই সালের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার রাতে জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ও পলাশবাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালায় জামায়াত-বিএনপি। ১৪ ডিসেম্বর সদর আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা শহরে ফেরার পথে বিকালে টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে হামলার শিকার হন। সে হামলায় নূর প্রাণে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মী হত্যার শিকার হন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ওই হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাত বছরেও কোনও অগ্রগতি নেই। আসামিরা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
মামলার বাদী নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আকতার বর্তমানে বদলিজনিত কারণে বরিশালে আছেন। মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় আমি বাদী হয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে প্রধান আসামি করে ১৪জন নামধারীসহ অজ্ঞাত প্রায় দেড় হাজার জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করি।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১১ মার্চ ২০৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজার রহমান। মামলাটি নীলফামারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি।
জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অক্ষয় কুমার রায় বলেন,‘মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রায় তিন বছর ধরে চার্জ গঠনের অপেক্ষায় আছে। ওই আদালতে বিচারক না থাকায় অগ্রগতি হচ্ছে না। সম্প্রতি বিচারকের শূন্যপদটি পূরণ হয়েছে। মামলার দুই জন আসামি মারা গেছেন, বাকিরা জামিনে আছেন।’