কুমিল্লার টাউন হল নামে পরিচিত বীরচন্দ্র নগর গণপাঠাগার ও মিলনায়তনটি (টাউন হল) পুরাকীর্তি হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। এ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির আহ্বায়ক সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল মান্নান ইলিয়াস এ কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত চেয়েছেন মন্ত্রণালয়। আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগুচ্ছি। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই গণশুনানি। আমরা কমিটির সদস্যরা গণশুনানি শুনলাম, আমাদের আরও প্রক্রিয়া রয়েছে। সবগুলো মিলিয়ে তারপর মন্ত্রণালয় ও সরকার সিদ্ধান্ত নেবে টাউন হলকে পুরাকীর্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে নাকি ভেঙে আধুনিকায়ন করা হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল মান্নান ইলিয়াসের সভাপতিত্বে বিশেষজ্ঞ কমিটির ১৩ সদস্যসহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক আবদুল হান্নান মিয়া শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে কুমিল্লার শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতিসহ বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
বীরচন্দ্র নগর গণপাঠাগার ও মিলনায়তনটি (টাউন হল) ভেঙে আধুনিকায়নের প্রস্তাবকারী হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তিনি বক্তব্যে বলেন, ১৯৩৩ সালে নির্মিত টাউন হলটি কুমিল্লার ৫৮ লাখ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। যা এখন জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী। এই টাউন হল সংস্কার হবেই, পুরাকীর্তি হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশের কথা মাথায় রেখেই টাউন হল নির্মাণ হবে। আগরতলার মহারাজাকেও অসম্মান করা হবে না, বীরচন্দ্র মানিক্য বাহাদুরের নামেই এই টাউন হলকে আধুনিকায়ন করা হবে। তবে নামের পাশে কমপ্লেক্স শব্দটি ব্যবহার করা হবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া শুনানিতে মোট ৩৭ জন বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এদের কেউই টাউন হল পুরাকীর্তি হওয়ার পক্ষে কথা বলেননি। সবাই এটিকে ভেঙে আধুনিকায়নের পক্ষেই মতামত দেন। তাদের মধ্যে কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল আহসান পাখী, মুক্তিযোদ্ধ সংসদ- কুমিল্লা জেলা কমান্ডার শফিউল আলম বাবুল, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জহিরুল হক দুলাল, কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাসান ইমাম ফটিক, নারী নেত্রী পাপড়ি বসু, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম টুটুল, জেলা পিপি জহিরুল ইসলাম সেলিম, ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ রুহুল আমিন, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জামাল নাসের, কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন খান জম্পি, জাগ্রত মানবিকতার সাধারণ সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনা, কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্যাহ খোকন, বিএমএ কুমিল্লার সভাপতি আতাউর রহমান জসিমসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
এদিকে শুনানিকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকে কুমিল্লার সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার হাতে সড়কের দুইপাশে মানববন্ধনে দাঁড়ান। বাদ থাকেননি কুমিল্লা জেলার কালেক্টরেট কর্মচারীরাসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক কর্মচারীরা।
এদিকে এই টাউন হলকে পুরাকীর্তি করার জন্য যারা দাবি করেছেন তাদের কাউকে আজ প্রকাশ্যে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। গণশুনানি এলাকায় তাদের দেখা যায়নি, শহরের কোথাও তাদের কোনও কর্মসূচি চোখে পড়েনি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র দাবি করেছে, আজ শহরজুড়ে সরকারদলীয় সংগঠন ও তাদের প্রভাবিত সংগঠনগুলো রাজপথে উপস্থিত ছিল। এ কারণে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে কেউ মাঠে নামেননি।