রাজশাহীতে ফারজানা তাসনিম সিমরান (২০) নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কুপিয়ে জখমের ঘটনার ঘটেছে। এ ঘটনায় এক তরুণীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মা শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ হামলায় অভিযুক্ত তরুণী ঝরনাকে আটক করেছে পুলিশ। বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে নগরীর বোয়ালিয়া থানার টিকাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সিমরান বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।
সিমরান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রিবিজনেস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নগরীর বোয়ালিয়া থানার টিকাপাড়া এলাকার মৃত আলতাফ হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত ঝরনা মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার টিকাপাড়া মিরেরচক এলাকার বাসিন্দা। তার মা জরিনা বেগম ভুক্তভোগীর বাড়ির গৃহকর্মী।
ভুক্তভোগীর মা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘দুপুরে ঝরনা আমাদের বাড়িতে আসে। এ সময় আমার মেয়ে সিমরান তার বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে বাড়ির দরজার তালা খুলে বের হচ্ছিল। হঠাৎ দেখি আমার মেয়ের মাথার চুল ধরে জোরে টান দিয়ে ঝরনা একটি বঁটি দিয়ে বুকের বাঁ পাশে সজোরে আঘাত করছে। সিমরানের চিৎকারে ঝরনা বাড়ির দরজা খুলে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে হামলায় ব্যবহৃত বঁটিসহ একটি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কী কারণে সে হামলা চালিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।
ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘অভিযুক্ত ঝরনাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদকালে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর ২টার পর তাকে ছাড়পত্র দিলে থানায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সে জিজ্ঞাসাবাদে একবার বলছে, সুযোগ পেলে চুরি করতাম। আবার সে বলছে, চুরি করার সময় দেখে ফেলায় তাকে আঘাত করা হয়েছে। ঝরনা বিবাহিত। জানা গেছে, সে স্বামী দ্বারাও নির্যাতিত। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আহত মেয়েটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত।’