পঞ্চগড়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রিতে

পঞ্চগড়ে তীব্র শীত,দিনের বেলাতেও গাড়ি চলে হেডলাইট জ্বালিয়ে।

পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত। বয়ে যাওয়া মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বেড়েছে দুর্ভোগ। বিকেল হলেই উত্তুরে হিমেল হাওয়ায় নেমে আসতে থাকে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। রাতভর পড়ে ঘন কুয়াশা। রাত গভীর হলে ঝড়ছে কুয়াশাবৃষ্টি। কুয়াশা বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট, গাছপালা, সড়ক মহাসড়ক ভিজে যাচ্ছে। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জেলায় সব থেকে কষ্টে রয়েছে দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক, পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিকসহ ছিন্নমুল মানুষ। সকালের ঠাণ্ডায় কাজে যোগ দিতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন এসব খেটে খাওয়া মানুষেরা। ঠাণ্ডার কারণে হাত-পায়ে জড়তা আসায় কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার হাসপাতালগুলোতে শীত ও শীতজনিত রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে।

জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি জানান, সকালে খুব কুয়াশা থাকে। বাড়ি থেকে বের হওয়া যায়  না। তারপরও বের হতে হয়। কাজ না করলে তো খাবার জুটবে না। শীতের সকালে কাজ করার সময় ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করলে হাত পা শিক লেগে (জমে) যায়।

কর্মজীবী মানুষ গরম পোশাক ও চলাচলে পড়েছেন ভীষণ দুর্ভোগে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মনোয়ারুল ইসলাম জানান, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীত ও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ১১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। গরম কাপড় পরিধান করা, গরম পানি পান করাসহ শিশু ও বৃদ্ধদের এসময়টাতে যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, রবিবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার পঞ্চগড়ে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। সকালে সূর্য উঠলেও উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে তাপমাত্রা নিচে নেমেছে। তিনি জানান. তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রির কাছাকাছি এলে এটিতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ  বলা হয়।

দুপুরের রোদে থাকে না শীত তাড়ানোর মতো তীব্রতা।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান জানান, জেলায় নতুন করে কোনও  শীতবস্ত্র বরাদ্দ আসেনি। বর্তমানে কোন মজুতও নেই। তবে কম্বল কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। টাকা পাঁচ উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে টেন্ডারের মাধ্যমে শীতবস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চলছে।