নির্বাচনি প্রচারণার সময় সংঘর্ষে আহত ১১

কুমিল্লার চান্দিনায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে চান্দিনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড ছায়কোট এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে। চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসউদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আহতরা হলেন– নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শওকত হোসেন সমর্থিত ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ছায়কোট এলাকার আবুল কালাম (৪০), একই এলাকার নুরুল ইসলাম (৩৮), আল-আমিন (৩০), মাহাবুব (৩০), আলী হোসেন (৪৫), আবুল হাসেম (৩২), শহীদুল ইসলাম (২৫) এবং জগ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন সমর্থিত হারং এলাকার শরীফুল ইসলাম (২০), রাসেদুল ইসলাম (২৮), মো. সোহান (১৬), শামীম সরকার (৪০)। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই সমর্থককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শামীম হোসেন কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ৭নং ওয়ার্ড এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন। সকাল সোয়া ১১টার দিকে নৌকা সমর্থিত স্থানীয় কিছু লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রথম দফার সংঘর্ষের পর উপর পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শামীম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি গণসংযোগ করতে ছায়কোট এলাকায় পৌঁছলে ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সালামের নেতৃত্বে নৌকার লোকজন আমার নেতাকর্মীর উপর হামলা চালায়। এ সময় আমাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এতে আমার ছয় নেতাকর্মী আহত হন। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন ভূঁইয়ার কর্মী-সমর্থকরাও আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। দুজন বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিসাধীন রয়েছেন।’  

আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন প্রতিদিন গাড়িবহর নিয়ে গণসংযোগের নামে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। আর যেখানেই নৌকা সমর্থিত লোকজন পাচ্ছেন তাদের মারধর করছেন।’

ওসি বলেন, ‘মূলত মেয়র প্রার্থীরা যেখানে গণসংযোগে যাবেন তার একটি তালিকা আগেই থানায় দেওয়ার কথা। কিন্তু তারা সেটা করেন না। সোমবার দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ পর্যন্ত কেউ লিখিত কোনও অভিযোগ করেননি।’