নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে ব্তিরণের জন্য বরাদ্দ পাঠ্যপুস্তক নিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জনপ্রতি ২০০ টাকা গুণতে হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই অনিয়ম চলতে থাকলে এক পর্যায়ে আপত্তি তোলেন অভিভাবকরা। তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে অভিভাবকদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা মাহফুজা আক্তার জানান, এমন কিছু অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। আরও জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
অভিভাবকরা জানায়,শনিবার সকাল থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের ৮৯ নং তাঁতখানা সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ে ১৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বই বিতরণ শুরু হয়। তখন একাধিক অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি ২০০ টাকা দাবি করেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা এম এ বারি, যুবলীগ নেতা মাহবুব, গাজী সেলিম আহমেদ ও প্রধান শিক্ষক রইস উদ্দিন। টাকা যারা দিচ্ছিলেন না, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছিল তাদের। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের চাপে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম এ বারি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গাজী সেলিমকে বলেছিলাম বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের বেতনের জন্য ২০০ করে টাকা নিতে, কিন্তু তা আরও দুই থেকে তিন মাস পর। কিন্তু সে শনিবার থেকে টাকা নিতে শুরু করায় অনেকেই বুঝতে ভুল করছেন। টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম এ বারির সামনেই কেঁদে ফেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার। সে জানায়,‘গাজী স্যার’ সকালে ২০০ টাকা নিয়েছেন। এখন ফেরত চাইতে গেলে তাকে বের করে দিয়েছেন।
শরীফ ভূঁইয়া নামের এক অভিভাবক তার মেয়েকে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি করাতে নিয়ে এসেছিলেন বলে জানালেন। তিনি বলেন, নতুন বই বাবদ ২০০ টাকা চাওয়ায় তিনি প্রতিবাদ করার পর অন্য কোথাও মেয়েকে ভর্তি করাতে পরামর্শ দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনে গাজী সেলিমের যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি।
রবিবার সরেজমিন পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা মাহফুজা আক্তার।
/জেবি/এইচকে/