হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে দিনে-দুপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, শনিবার (১৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাইসুল হক হিমেলকে মারধর করে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ-ছয় জন শিক্ষার্থী।
হিমেল বলেন, ‘ওইদিন দুপুর ৩টার দিকে আমি এবং আমার বান্ধবী ক্যাম্পাসের পশ্চিম দিকের পুকুর পাড়ে বসে গল্প করছিলাম। এ সময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ-ছয় জন সিনিয়র ভাই এসে আমাদের পরিচয় জানতে চায়। প্রথমে আমি তাদের চিনতে না পারায় পরিচয় জানতে চাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করি। এ কথা শুনে তারা আমরা গায়ে হাত তুলতে উদ্যত হলে আমি তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে তারা সবাই আমাকে মারপিট করতে শুরু করে। এসব দেখে আমার বান্ধবী অজ্ঞান হয়ে যায়। অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় আমি তাকে আমার ঘাড়ে মাথা দিয়ে রেখেছিলাম। একপর্যায়ে তারা সেই দৃশ্য ভিডিও করতে থাকে। এরপর তারা আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ভয়-ভীতি দেখাতে থাকে। আমার কাছে এত টাকা ছিল না বিধায় তখন আমি আমার বোনকে ফোন করি। তার কিছুক্ষণ পরেই বিকাশে আমার দুলাভাই টাকা পাঠিয়ে দেয়। এরপর একজন বড় ভাই আমার হাত থেকে ফোন নিয়ে বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে ক্যাশ আউট করে ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এছাড়াও আমার বান্ধবীর ফোন নিয়ে মেসেঞ্জারে ঢুকে তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি তাদের ফোনে নিয়ে নেয়।’
এদিকে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম ব্যাচের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মামুন। ঘটনার ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আপনাদের নিউজ করারও প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে রনি ভাইয়ের (বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগ নেতা) সঙ্গে কথা বলুন।’ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন কিনা জানতে চাইলে মামুন বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারবো না।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদুল আলম রনি বলেন, ‘ঘটনার ব্যাপারে আমি কিছু জানতাম না। কয়েকজন জুনিয়র এসে প্রথমে আমাকে ঘটনাটি জানায়। পরে জানতে পারি এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ঐতিহ্য ভাই আমাকে ফোন করেছিলেন, তখন আমি শহরে ছিলাম। ঐতিহ্য ভাই সম্ভবত ওই শিক্ষার্থীর পরিচিত ছিল।’
এই ঘটনায় ছাত্রলীগ পরিচয়ে কেউ সম্পৃক্ত ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রনি বলেন, ‘প্রথমত ছাত্রলীগ কোনও ব্যক্তির দায়ভার নেবে না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ঐতিহ্য হলো, আমরা সব সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকি। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে তাহলে কখনোই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেটা সমর্থন করবে না।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য বলেন, ‘হিমেল (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) আমার বন্ধুর ছোট ভাই। ওর সঙ্গে যা হয়েছে সেটা ক্ষমার অযোগ্য। এর সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাদের সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। আর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গেও কথা বলবো এই ঘটনায় জড়িতদের বহিষ্কার করার ব্যাপারে। আর হিমেলকে জিডি করতে বলেছি। পরে মামলাও করা হবে।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. খালিদ হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জেনেছি। ব্যাপারটি অত্যন্ত দুঃখজনক। যেই দোষী হোক না কেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’