যশোরের বাঘারপাড়া থেকে স্বর্ণের বার উদ্ধার মামলায় দুই জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২১ মার্চ) বিকালে জেলা ও দায়রা জজ এবং সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক এক রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো– খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হাশিমপুর সাহাপাড়ার খানবাড়ির মৃত রেজওয়ান খানের ছেলে তহিদুর রহমান খান এবং বাগেরহাট সদর উপজেলার বোটপুর গ্রামের মৃত দুলাল শেখের ছেলে আব্দুল মালেকুর ওরফে মালেক শেখ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ওই দুজনকে একটি প্রাইভেটকারসহ আটক করে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা ও প্রাইভেটকারটি জব্দ রাখা হয়। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে বাঘারপাড়া থানার পুলিশ জানতে পারে থানায় জব্দ থাকা প্রাইভেটকারের মধ্যে স্বর্ণেরবার লুকানো আছে। থানার ওসি তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। তাদের নির্দেশে স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে রাত ১২টা ১৫ মিনিটে বাঘারপাড়া থানা ভবনের সামনে প্রাইভেটকার এনে তল্লাশি করা হয়। এ সময় গাড়ির গিয়ার বক্সের মধ্যে থেকে কসটেপে জড়ানো ১১টি প্যাকেট পাওয়া যায়। ওই প্যাকেটের মধ্যে লুকানো ছিলো ১১০টি সোনার বার। যার ওজন ১২ কেজি ৮৩০ গ্রাম। বাজার মূল্য চার কোটি চার লাখ আশি হাজার টাকা। এ ঘটনায় বাঘারপাড়া থানার এসআই ছামেদুল হক বাদী হয়ে চোরচালান দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই আবুল খায়ের মোল্লা তদন্ত শেষে ওই বছরই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকায় তহিদুর রহমান খান ও মালেক শেখের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) এম ইদ্রিস আলী জানান, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের এ সাজা দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত দুই জন কারাগারে আটক আছে।