এবার প্রথম পর্বে অংশ নেবেন ঢাকার একাংশ ও ১৬টি জেলার মুসল্লিরা। ১০ জানুয়ারি রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্ব শেষ হবে। চার দিন বিরতির পর ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ। দ্বিতীয় ধাপে অংশ নেবেন আরও ১৬টি জেলার তাবলিগ কর্মীরা। ১৭ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার।
এবার বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপে যে ১৬টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন- শেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পঞ্চগড়।
প্রতি বছরের মতো এবারও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও কলকারখানার শ্রমিক-মালিকসহ বিভিন্ন পেশার মুসলিম ধর্মানুরাগীরা বিশ্ব ইজতেমার মাঠে প্রস্তুতিমূলক কাজে অংশ নিয়েছেন।
ময়দানে মুসল্লিদের কাতারবদ্ধ হওয়ার জন্যে পুরো মাঠে দাগ কাটা হয়েছে। এছাড়া ইজতেমা ময়দানে জেলাওয়ারি মুসল্লিদের স্থানও (খিত্তা) নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতিকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা শ্রীপুরের মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘সব কাজ করা হচ্ছে মোশায়রার (পরামর্শ) মাধ্যমে। বিদ্যুৎ, পানি, প্যান্ডেল তৈরি, গ্যাস সরবরাহ প্রতিটি কাজই আলাদা আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিদেশি মেহমানদের জন্য ইজতেমা মাঠের উত্তর-পশ্চিম পাশে বিশেষ কামরা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিদের তুরাগ নদ পারাপারের জন্য সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের সদস্যরা তুরাগ নদের ৯টি স্থানে ভাসমান সেতু নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করেছে।’
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের টঙ্গী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান,ইজতেমা মাঠে স্থাপিত নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন তিন কোটি লিটারেরও বেশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওজু-গোসলের হাউস ও টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় স্থানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও পাকা দালানে প্রায় ছয় হাজারের মতো টয়লেট ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত অজু-গোসলখানা এবং টয়লেটগুলো ইতোমধ্যে সংস্কার করা হয়েছে।
ডেসকো কর্তৃপক্ষ জানায়, ইজতেমা এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সব প্রস্তুতি রয়েছে। উত্তরা,টঙ্গী সুপারগ্রিড ও টঙ্গী নিউগ্রিডকে মূল ১৩২ কেভি সোর্স হিসেবে নির্বাচন করা হবে,যে কোনও একটি গ্রিড অকেজো হলেও যাতে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত না হয়। ইজতেমা এলাকায় চারটি স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর এবং পাঁচটি ট্রলি-মাউন্টেড ট্রান্সফরমারও সংরক্ষণ করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের টঙ্গীর স্টেশন অফিসার মোর্শেদ আলম জানান, ইজতেমাস্থলে তাদের একটি কন্ট্রোল রুমও স্থপন করা হয়েছে। যেখানে সার্বক্ষণিক কর্মকর্তাসহ ফায়ারম্যানরা থাকবেন। ময়দানের প্রতি খিত্তায় ফায়ার এস্টিংগুইসারসহ ফায়ারম্যান, গুদাম ঘর ও বিদেশি মেহমানখানা এলাকায় তিনটি পানিবাহী গাড়ি,তিন সদস্যের ডুবুরি ইউনিট,একটি স্ট্যান্ডবাই লাইটিং ইউনিট এবং পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।
তিনি আরও জানান,ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে তাদের উদ্যোগে ইজতেমা মাঠের আশেপাশের এলাকায় পানি ছিটানো হবে।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার পারভেজ আলম জানান, তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মেডিকেল অফিসারদের তালিকা ও ডিউটি রোস্টার করা হয়েছে। মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে মন্নু গেট, এটলাস গেট, বাটা কারাখানার গেট ও টঙ্গী হাসপাতাল মাঠসহ ছয়টি স্থানে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এখানে হৃদরোগ, অ্যাজমা, ট্রমা, বার্ন, চোখ এবং ওআরটি কর্নারসহ বিভিন্ন ইউনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ চিকিৎসা দেবেন। রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সার্বক্ষণিক ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে।
/জেবি/এফএস/