ফরিদপুরের বোয়ালমারীর একটি স্কুলে অবৈধভাবে নিয়োগের অভিযোগে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে। জানা গেছে, বুধবার (৩১ মার্চ) উপজেলার রূপাপাত বামন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। টাকার বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতি করে শিলা পারভিন নামে একজনকে এ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
কালীনগর গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন মন্টু ফকির নামে এক ব্যক্তি ২৮ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারিয়া হক স্কুলে উপস্থিত হন। পরে কমিটির সবার উপস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিলা পারভিন রূপাপাত বামন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মোল্লার স্ত্রী। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নিরুল মিয়া এবং মিজানুর রহমান মোল্লা একই দলভুক্ত। ওই পদে সহকারী শিক্ষিকা শিলা পারভিনকে লোক দেখানো পরীক্ষার আয়োজন করে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যা নিয়ে এলাকা সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগের জন্য আবেদন করেন ১৪ জন। নিয়োগ পরীক্ষার দিন হাজির হন ১০ জন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান মোল্লা বলেন, ‘মন্টু ফকিরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সবার সামনে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার জন্য যে প্রশ্ন করা হয়েছে তা বাদ দিয়ে নতুন করে প্রশ্ন করে পরীক্ষা নেওয়া হোক। যেহেতু নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পড়েছে। তার এই কথা শুনে সভাপতি বলেন, “আমি দশটা প্রশ্ন দেব।” সভাপতির এ প্রস্তাবে কমিটির অন্য সদস্যরা রাজি না হওয়ার কারণে নিয়োগ স্থগিত করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিজির প্রতিনিধি ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা জাহান নিয়োগ পরীক্ষার সব প্রশ্ন করে নিয়ে এসেছিলেন।’
বোয়ালমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষার আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারিয়া হক স্কুলে যান। আমরা সবাই প্রস্তাব রাখি, যে প্রশ্ন করে আনা হয়েছে ওই প্রশ্ন বাদ দিতে হবে এবং এসিল্যান্ড স্যার বই দেখে নতুন করে প্রশ্ন দেবেন। সেই প্রশ্নে নিয়োগ পরীক্ষা হবে। এ প্রস্তাব সভাপতি না মানার কারণে নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।’
বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারিয়া হক বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে স্কুলে গিয়ে নিয়োগ কমিটিকে বলি, ‘নিয়োগের জন্য যে প্রশ্ন করে আনা হয়েছে সে প্রশ্ন বাদ দিয়ে উপস্থিতির উপরে নতুন করে প্রশ্ন করে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হোক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সভাপতি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নের মধ্যে তার কিছু প্রশ্ন রাখতে হবে। তার এই প্রস্তাবে কমিটির অন্য সদস্যরা রাজি না হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’