গাজীপুরের টঙ্গীতে মোজাম্মেল হোসেন মাজুকে (১৬) শেকলে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কর্মস্থলে না যাওয়ায় তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। টঙ্গীর কলেজগেট এলাকার হোটেল মালিক সুমন ও তার ম্যানেজার সুমন চিশতিসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়। এ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে এবার শেকলে বেঁধে শিশুকে পিটিয়ে হত্যা এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
মোজাম্মেল হোসেন মাজুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা হয় তার বাবা জামাল উদ্দিনের সঙ্গে। পেশায় মুচি এই ব্যক্তি জানান, মাজু তার একমাত্র সন্তান। ছোটবেলায় স্কুলে গিয়ে নিজের নাম পরিচয় লিখতে শিখেছিল। এরপর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। পরে মায়ের সঙ্গে তাকেও ভাঙারির কাজে নেমে পড়তে হয়।
জামাল উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে টঙ্গীর হিমারদিঘী এলাকায় সুমনের ভাঙারী দোকানে গত সাত মাস ধরে কাজ করছে। সারাদিনের জোগাড় করা ভাঙারি সুমনের দোকানে জমা দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ টাকা পেত। যেদিন ভাঙারি মিলতো না, শূন্য হাতে ঘরে ফিরতো। গত কয়েকদিন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় সে দুইদিন সুমনের দোকানে যায়নি।
তিনি আরও বলেন, সোমবার সকালে ভাঙারি দোকান মালিক সুমন ও তার ম্যানেজার সুমন চিশতী আমার বাসা থেকে ছেলেকে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। সে রাতে ছেলে আমার বাসায় ফিরেনি। সুমন তার দোকানে শিকল দিয়ে বেঁধে রড দিয়ে পিটিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করে। পরে তার দোকানেই লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে।
জামাল উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে টঙ্গী থানার পুলিশ এসে আমাকে আমার ছেলে হত্যার কথা জানায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে ময়না তদন্তের জন্য মোড়ানো লাশ হাসপাতালে নেওয়ার সময় ছেলেকে দেখতে পাই। আমার ছেলে আর স্ত্রীর ভাঙারির টাকায় সংসারের খরচের সিংহভাগ চলতো। একমাত্র সন্তান হারিয়ে আমি সর্বহারা। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
/এইচকে/