রাজাপুরে শিক্ষক নিয়োগে অর্ধকোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

ঝালকাঠির রাজাপুরের কানুদাসকাঠি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুজ্জামান ও প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১২ শিক্ষক ও ৬ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ১৮ জন প্রার্থীর কাছ থেকে ৫০ লক্ষাধিক টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘুষ দিয়েও কোনও প্রার্থীই এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত নিয়োগ পায়নি। তাদের বর্তমানে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া জানা গেছে।
এছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মকর্তাদের এনে অনুষ্ঠান করতে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা চাঁদা হিসাবে নিয়েও বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই স্কুলের শিক্ষক প্রার্থী উপজেলার মধ্য কানুদাসকাঠি গ্রামের আবদুল বাতেনের স্ত্রী শিউলী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, গত ২০১৩ সালে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুজ্জামান ও প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান দুইলক্ষ টাকা ঘুষসহ প্রয়োজনীয় সনদপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্রের কপি নিয়ে নেয়। বিনা বেতনে দুই বছর প্রতিষ্ঠানে কাজ করিয়ে তার কাছে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে রাজি না হলে প্রতিষ্ঠানের নামে করা একটি ফর্মে প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান শিউলী আক্তারের বাবার নাম জালাল উদ্দিন তালুকদারের পরিবর্তে আলতাফ হোসেন লিখে ঝালকাঠি জেলার সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেয় এবং তার সনদের বাবার নামের সঙ্গে পুরণকৃত ফর্মের নামের মিল না থাকায় তাকে চাকরি দেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে না করার শর্তে একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, এ রকম আরও ১২ শিক্ষক ও ৬ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি প্রার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন হারে দুই লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা এবং চতুর্থ শ্রেণির দুইজন প্রার্থীর কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন তিনি।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে হওয়ায় কোন তদারকি বা কর্তা ব্যক্তিদের নজরদারি না থাকায় সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক স্কুলের বিভিন্ন পদে নিয়োগে এভাবে ঘুষ বাণিজ্য করছে।

কানুদাসকাঠি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নুরুজ্জামান বাবলু সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দীর্ঘদিন সরকারীভাবে বেতন না হওয়ায় প্রার্থী শিউলী আক্তার তার দেওয়া ২০ হাজার টাকা ফেরত নিয়ে লিখিত দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে গেছে। বাবার নাম পরিবর্তনের অভিযোগের বিষয়টিও সত্য নয় দাবি করেন তারা।

/আরএ/