তেলের ট্যাংকারের ধাক্কায় পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিসের পন্টুনে নোঙর করে রাখা বনবিভাগের একটি কেবিন ক্রুজারসহ তিনটি নৌযান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ‘যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে’ বরিশালগামী এমভি মক্কা-১ নামের তেলের ট্যাঙ্কারের সাথে শরণখোলা-বগি নদীতে এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. কামাল উদ্দীন আহমেদ।
এসিএফ বলেন, মংলা থেকে বরিশালে যাওয়ার পথে সুন্দরবনের শরণখোলা-বগি নদী পার হবার সময় ট্যাঙ্কারটি শরণখোলা রেঞ্জ অফিসের জেটি ও পন্টুনে আঘাত করে। এ সময় জেটিতে নোঙর করে থাকা বনবিভাগের আধুনিক কেবিন ক্রুজারসহ তিনটি নৌযানে আঘাত লাগে।
ক্ষতিগ্রস্থ নৌযানগুলো হলো আধুনিক কেবিন ক্রুজার বনহরিণী ১ এবং দুটি বনহরিণী ৪ নামের টহল নৌযান। কেবিন ক্রুজারটি মাঝখান থেকে ভেঙ্গে অর্ধ নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটিয়ে তেলের ট্যাংকারটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে সেটিকে আটক করে। ট্যাংকারটির মালিক ঢাকার কেএম মাহমুদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী।
এসিএফ আরও বলেন, দুর্ঘটনায় ২০/২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তেলের ট্যাঙ্কারটির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ট্যাংকারটির মালিক পক্ষ যাবতীয় ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তেলের ট্যাংকারের মাস্টার আ. করিম জানান, রেঞ্জ অফিসের সামনের বাঁক ঘোরার সময় ইলেক্ট্রিক হাইড্রোলিক বিকল হওয়ায় গতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কেএম মাহমুদুর রহমানের প্রতিষ্ঠান হাই স্পীড-এর খুলনা অঞ্চলের সুপার ভাইজার মো. আব্দুল আজিজ বলেন, চট্টগ্রাম পদ্মা ডিপো থেকে জাহাজটি তেল নিয়ে ৮ ডিসেম্বর খুলনা পৌঁছে। সেখানে তেল খালাস করে ঢাকায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনায় পড়ে। বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানানো হয়েছে।
/এইচকে/