জেনে নিন ইজতেমায় কোথায় পার্কিং, কোন কোন রুটে যান চলাচল বন্ধ

৮ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম এই জমায়েতের নিরাপত্তা ও মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইজতেমাকালীন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত যানবাহনগুলোর পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারণসহ রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই এসব নির্দেশ কার্যকর হবে।

তাই ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম ধাপে এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ২য় ধাপে ইজতেমা চলাকালীন কোন কোন সড়কে চলাচলে কি কি নিষেধাজ্ঞা আছে, কোথায় কোথায় গাড়ি পার্কিং করা যাবে আর কোথায় যাবে না জেনে নিন তার বিস্তারিত তথ্য।

গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বুধবার (৬ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬ টা হতে ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা এবং ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা হতে ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আশুলিয়া ব্রিজ হতে আব্দুল্লাহপুর হয়ে প্রগতি সরণি এবং টঙ্গী ব্রিজ হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে বিমান যাত্রী ও ক্রু-বহনকারী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যান্বুলেন্স এর আওতামুক্ত থাকবে।
একই দিন সন্ধ্যা থেকে ১০ জানুয়ারি রাত পর্যন্ত ঘোড়াশাল কালীগঞ্জ-পূবাইল হয়ে আগত যানবাহন টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব মরকুন (কে-২ ফ্যাক্টরি) পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। ইজতেমাকালীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ঘোড়াশাল থেকে টঙ্গী হয়ে মহাখালীগামী সাধারণ যানবাহনসমূহকে এই সড়ক এড়িয়ে কাঁচপুর-যাত্রাবাড়ী সড়ক দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
ইজতেমায় গমনেচ্ছু মুসল্লি, উত্তরা ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা, বিমানযাত্রী ও বিমান ক্রু-বহনকারী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও নিরাপত্তাবাহিনীর গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সব ধরনের যান চালকদের বিমানবন্দর সড়কের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে মিরপুর-সাভার সড়ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর থেকে যে সব মুসল্লি পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে যাবেন তাদেরকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গোল চক্কর-আজমপুর-আব্দুল্লাহপুর হয়ে টঙ্গী ব্রিজ সড়ক দিয়ে যাওয়ার বদলে তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজ অথবা কামারপাড়া ব্রিজ দিয়ে ইজতেমা মাঠে যাতায়াতের জন্য বলা হয়েছে।

মুসল্লিবহনকারী গাড়ি পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থান:

যেসব মুসল্লি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে ইজতেমা মাঠে আসবেন তাদের গাড়ি রাখার জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো হচ্ছে গাজীপুর জেলা টঙ্গীর কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিল কম্পাউন্ড, মেঘনা টেক্সটাইল মিলের পাশে রাস্তার উভয় পাশ, শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠ, শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে টিআইসি মাঠ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ, জয়দেবপুর চৌরাস্তা (তেলিপাড়া) ট্রাকস্ট্যান্ড, চান্দনা হাইস্কুল মাঠ, টঙ্গীর কে-২ (নেভী) সিগারেট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন খোলা স্থান।

মহানগর ও বিভাগভিত্তিক পার্কিংয়ের নির্দেশনা:

ঢাকা মহানগর এলাকার যানবাহনসমূহ: গাউছুল আজম এভিনিউ (১৩নং সেক্টর রোডের পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত হয়ে গরীবে নেওয়াজ রোড)

ঢাকা জেলার যানবাহনসমূহ: আশুলিয়া কলেজ মাঠ এবং আশুলিয়া হাইস্কুল মাঠ।

ঢাকা বিভাগের যানবাহনসমূহ: সোনারগাঁও জনপথ চৌরাস্তা হতে দিয়াবাড়ি খালপাড় পর্যন্ত

সিলেট বিভাগের যানবাহনসমূহ: উত্তরার ১২ নং সেক্টরের শাহ মখদুম এভিনিউ

খুলনা বিভাগের যানবাহনসমূহ: উত্তরার ১৫ এবং ১৮ নং সেক্টরের খালি জায়গা

রংপুর বিভাগের যানবাহনসমূহ: কামারপাড়া সংলগ্ন মাঠ ও ১০ নং সেক্টরের খালি জায়গা রাজশাহী বিভাগের যানবাহনসমূহ: প্রত্যাশা হাউজিং এলাকা

বরিশাল বিভাগের যানবাহনসমূহ: দৌড় ব্রিজ সংলগ্ন পার্কিং (আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের খালি জায়গা এবং ১৫ এবং ১৮ নং সেক্টরের খালি জায়গা।

চট্টগ্রাম বিভাগের যানবাহনসমূহ: উত্তরা ১৩ নং সেক্টরের গাউসুল আজম এভিনিউ ও গরীবে নেওয়াজে রোডের উভয় পাশে

যে সব এলাকায় গাড়ি পার্কিং করা যাবে না:

মহাখালী ক্রসিং থেকে টঙ্গী হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে, আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে, প্রগতি সরণিস্থ মধ্যবাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রগতি সরণিস্থ রাস্তার দুই পাশে।

উল্লেখ্য, ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ। ১০ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে প্রথম ধাপের কার্যক্রম। এর ৪ দিন পর ১৫ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপ।

/টিএন/