ইলিশ শিকারে অভয়াশ্রমের দিকে ছুটছেন জেলেরা

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে ইলিশ শিকারে নামবেন বরিশালের জেলেরা। এ জন্য আগে থেকেই ছিল তাদের প্রস্তুতি। এ সময় সাগর ও নদীতে কম ইলিশ থাকায় অভয়াশ্রম থেকে বড় সাইজের ইলিশ শিকার করে ভালো মূল্য পাওয়ার আশা করছেন জেলেরা।

তবে অভিযোগ রয়েছে, অভয়াশ্রম সম্পর্কে জেলেদের তেমন জ্ঞান না থাকা এবং সচেতন না হওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর প্ররোচনায় নিষিদ্ধ সময়েও ইলিশ শিকার করা হয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে অভয়াশ্রমের সুফল পাওয়া যাবে না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের সীমানা হচ্ছে– বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর নদীর হবিগনর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জের বামনীরচর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১৪ বর্গ কিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের গজারিয়া নদীর হার্ডপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ দশমিক ২৭ বর্গ কিলোমিটার, হিজলার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬৩ বর্গ কিলোমিটার। এ সীমানার মধ্যে নদীগুলো হচ্ছে: কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, নয়ভাঙ্গুলী, গজারিয়া ও কীর্তনখোলার আংশিক। এ অভয়াশ্রম ঘিরে রয়েছে ৬০ হাজার জেলে পরিবার।

তিনি আরও জানান, প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাস গভীর সমুদ্রে থাকা জাটকা ইলিশ শ্যাওলাজাতীয় খাদ্য খেতে অভয়াশ্রমে চলে আসে। এ সময় অভয়াশ্রমে জাটকা আবাসস্থল গড়ে তোলে। ওই দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ রাখতে পারলে জাটকা বড় সাইজের ইলিশে রূপ নেয়। এতে গবেষণায় অভয়াশ্রম থেকে যে পরিমাণ ইলিশপ্রাপ্তির বিষয় উঠে এসেছে সেভাবেই পাওয়া সম্ভব।

নগরীর পোর্ট রোডের ইলিশের আড়তদার জহির সিকদার বলেন, ‘এ বছর ষষ্ঠ অভয়াশ্রম থেকে চাপিলা নামে বিপুল পরিমাণ জাটকা ইলিশ নিধন করা হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা এ শিকারে লিপ্ত ছিল।  এভাবে শিকার নিষিদ্ধ থাকা কালে মাছ ধরা হলে পরিপক্ব ইলিশ জালে উঠবে না।’ এ জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন তিনি।

পোর্ট রোডে মাছ কিনতে আসা শিক্ষক জহিরুল ইসলাম জাফর বলেন, ‘অভয়াশ্রম কী সে বিষয়ে জেলেদের সামান্যতম জ্ঞানও নেই, নেই সচেতনতা। এ জন্য প্রথমে দরকার জেলেদের মাঝে অভয়াশ্রম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আর তা সম্ভব হলে ষষ্ঠ অভয়াশ্রম থেকেই টনকে টন ইলিশ আহরণ সম্ভব হবে।’

ইলিশের অভয়াশ্রম সম্পর্কে জেলেরা তেমন একটা সচেতন নয় স্বীকার করে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এ বছর নিয়ে দুই বছর ধরে ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে বছরে দুই মাস সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল। এরপরও অতিরিক্ত লোভে জেলেরা নিষিদ্ধ স্থানে মাছ শিকার করতে যান।’

তিনি আরও জানান, এ বছর ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে ৩৭১টি অভিযানের মাধ্যমে ২৯৬ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা আদায় করা হয় আড়াই লাখ টাকা। এছাড়া জাটকা ও অন্যান্য মাছসহ ৪০ মেট্রিক টন মাছ জব্দ এবং ২০ লাখ মিটার অবৈধ জাল আগুনে ধ্বংস করা হয়।

এদিকে গত এক সপ্তাহ আগে থেকেই নগরীর পোর্ট রোড খালের অপরপ্রান্তে থাকা জেলেরা দিনরাত ইলিশ শিকারে ব্যবহৃত জাল ঠিকঠাক করতে বেশি সময় দিয়েছেন। এছাড়া ইলিশ শিকারে ব্যবহৃত বোট থেকে শুরু করে সরঞ্জাম ঠিকঠাক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখেছেন। শুক্রবার সকাল থেকেই জেলেরা অভয়াশ্রমে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে ছুটেছেন।