গেল বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে মোট ৩০ হাজার ৪৯৭ জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে মোট ৬৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮ হাজার ৪ শ’ ৪২ জন। এছাড়া এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২১ হাজার ৮শ’ ৫৫ জন। এরমধ্যে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গু হয়ে গেছেন এক হাজার ৩শ’ ৫ জন মানুষ।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গত এক বছরে দেশের ১০টি জাতীয় ও ৬টি স্থানীয় দৈনিক এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর খবর পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটি এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি পড়ে শোনান। একইসঙ্গে তিনি এসব সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ১২টি কারণও উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, সড়ক মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো হলো-ফুটপাত দখল, ওভার টেকিং, ওভার স্পিড ও ওভারলোড, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, রাস্তার নির্মাণ ত্রুটি, গাড়ির ত্রুটি, যাত্রীদের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন না মানা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেব্রা ক্রসিং না থাকা ও না মানা, গাড়ি চালানো অবস্থায় চালকদের মোবাইল ব্যবহার, মহাসড়কে একইসঙ্গে স্বল্প ও দ্রুত গতির যান চলাচল, মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো এবং মহাসড়ক ও ক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন প্রবেশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব লায়ন গনি মিয়া প্রমুখ।
ওএফ/এসএম/টিএন/