সাতক্ষীরা উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা সেই তরুণ জলবায়ুকর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পাউবো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, শনিবার (২৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলার ঝাঁপা এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধ সংস্কার করার সময় শত শত মানুষের সামনে তাদের মারধর করা হয়।
শুক্রবার (২৮ মে) সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পাতাখালীতে ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধের উপর কাফনের কাপড় পরে জলবায়ুকর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি পালনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এরপর রাতে জলবায়ু কর্মীদের ফোন করে পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান ও পাউবোর সেকশন (এসও) অফিসার আলমগীর হোসেন হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপকূলের লাখ লাখ জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য কাফনের কাপড় পরে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অবস্থান কর্মসূচিতে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় জনপদের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীসহ কয়েকশ’ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এই খবর গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হয়।
এরপর শনিবার সকাল থেকে স্থানীয় গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙন কবলিত ঝাঁপা অংশের উপকূল রক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজ শুরু করেন। এ সময় কাজে নিয়োজিত গ্রামবাসীদের উৎসাহিত করতে স্বেচ্ছাসেবী ওই সংগঠনের কয়েকজন কর্মী একটি অনলাইন পোর্টালে লাইভ টেলিকাস্ট করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বাঁধের দায়িত্বে থাকা পাউবোর এসও আলমগীর হোসেন দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে জলবায়ুকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী শাহিন বিল্লাহসহ তার সহকর্মীদের লাইভ টেলিকাস্ট বন্ধ করতে বলেন। তিনি শাহিনের হাত চেপে ধরেন। এ সময় শাহিনকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শত শত গ্রামবাসীর সামনে মারতে শুরু করেন। তাৎক্ষণিক গ্রামবাসী এগিয়ে এসে শাহিনসহ তার সহকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে শাহিন বিল্লাহ বলেন, ‘চেয়ারম্যান সবার সামনে আমাকে থাপ্পড় মেরেছেন। হুমকি দিয়েছেন। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুল্লাহ গাজী ও মুজিবর রহমান জানান, বাঁধের দাবিতে কর্মসূচি পালন করায় চেয়ারম্যান সবার সামনে শাহিনকে মেরেছেন। শাহিনকে মেরে পরবর্তীতে উপকূল নিয়ে কোনও কর্মসূচি পালন করলে দেখে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
আজগর আলী ও সোহরাব হোসেন নামে স্থানীয় দুই শ্রমিক বলেন, ‘সকাল থেকে আমরা প্রায় তিন হাজার গ্রামবাসী বাঁধ মেরামত করছিলাম। শাহিন তা ভিডিও করে প্রচারের সময় চেয়ারম্যান লোকজন নিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় এসও সাহেব শাহিনকে জেলে ভরতে চান।’
এ প্রসঙ্গে পাউবোর সেকশন অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার সঙ্গে শাহিনের কোনও সমস্যা হয়নি। তবে ভাতিজা হওয়ায় চেয়ারম্যান শাহিন বিল্লাহর সঙ্গে কিছুটা খারাপ আচরণ করেছেন।’
মারধরের বিষয়ে জানার জন্য পদ্মপুকুরের ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের মোবাইল ফোনে বার বার কল দেওয়া হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ সময় তার ফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, তরুণ জলবায়ু কর্মীদের মারধরের ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুকে নিন্দার ঝড় বইছে।