বগুড়ার সান্তাহারে শুক্রবার দুপুরে দু’টি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আরেক শ্রমিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। তার নাম সোহাগ হোসেন (২৬)। তিনি ককটেলের আঘাতে আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় এ নিয়ে দু’জনের মৃত্যু হলো। এদিকে, এ ঘটনায় শ্রমিকদের ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণের অভিযোগে পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তাসহ তিন পুলিশকে ক্লোজ করা হয়েছে।
চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই সংঘর্ষে নিহত অপরজন হচ্ছেন যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম (৪০)। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনিও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এদিকে, শফিকুলের সমর্থকরা শনিবার সকালে লাঠি হাতে শোক র্যালি করে। এসময় তারা বিভিন্ন স্থানে দোকানপাটে হামলা ও ভাংচুর করে। এসময় তিনটি দোকানে আগুন দেওয়া হয়।
পুলিশ এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও জাপার দুই নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে। শ্রমিকদের ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণের অভিযোগে পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তাসহ তিন পুলিশকে ক্লোজ করা হয়েছে। পুলিশ মোতায়েন থাকলেও সব দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শফিকুলের লাশ বাদ জোহর তার গ্রামের বাড়ি সান্দিরার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে, শনিবার বিকাল পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটক তিনজন হলেন, সান্তাহার পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল লতিফ, সান্তাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মন্টু এবং ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সজল হোসেন। ক্লোজ তিন পুলিশ সদস্যরা হলেন, সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই সানোয়ার হোসেন, এটিএসআই আবদুল খালেক ও কনস্টেবল মামুন।
/জেবি/টিএন/