শনিবার দুপুর সোয়া ১২টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সহীদ উদ্দিন এস্কান্দার কচি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে অপহৃতের পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন। অপহৃত সুমি রানী মজুমদার সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের দিনমজুর শিবানন্দ মজুমদারের মেয়ে।
লিখিত বক্তব্যে অপহৃতের মা লিপি রানী মজুমদার বলেন, সুমি স্থানীয় সৈকত ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী। কলেজে যাওয়া আসার পথে প্রতিবেশি মো.নবীর বখাটে ছেলে সোহাগ তাকে উত্যক্ত করতো।এক পর্যায়ে সুমিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় সোহাগ। সুমি ধর্মের ভিন্নতা দেখিয়ে তা প্রত্যাখান করে।বিষয়টি সুমি তাকে ও তার বাবাকে জানালে তারা সোহাগের পরিবারকে বিষয়টি জানায়।এতে সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে অপহরণের হুমকি দেয়।এরই জের ধরে গত ১৯ ডিসেম্বর পার্শ্ববর্তী বৈরাগী বাজারে মাসির (খালা) বাড়ি যাওয়ার পথে স্থানীয় হেডম মার্কেট এলাকা থেকে সোহাগসহ বেশ কয়েকজন মিলে সুমিকে জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
অপহৃতের মা অভিযোগ করেন,বিষয়টি চরজব্বার থানায় জানিয়ে মামলা করতে গেলে নানা অজুহাতে মামলা নিতে চায়নি ওসি।কয়েকদিন পর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের সহযোগিতায় অপহরণের ১২দিন পর ১ জানুয়ারি থানায় মামলা করেন।কিন্তু আসামিদের গ্রেফতার বা সুমিকে উদ্ধারে কোনও তৎপরতা নেই পুলিশের। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে অপহৃতের পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে।এতে পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।অপর দিকে সুমি মৃত না জীবিত এ নিয়েও দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে তারা।সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের কাছে সুমিকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানান তারা।
চরজব্বর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই ) ইব্রাহিম বলেন,অপহরণের ঘটনায় ১ জানুয়ারি মামলা হয়েছে। মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তবে আসামিদের গ্রেফতার ও অপহৃত সুমিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
/জেবি/এমএসএম/
আপ-এমপি