প্রেমের ঘটনার সালিশ বৈঠকে কিশোরীকে বিয়ে করে আলোচিত পটুয়াখালীর কনকদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারের বিরুদ্ধে এবার এক স্বাস্থ্যকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। লাঞ্ছনার শিকার স্বাস্থ্যকর্মী আল-আমিন শিকদার রবিবার (৮ আগস্ট) জানান, ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি ওই চেয়ারম্যানের মারধরের শিকার হন।
এর আগে বাউফল উপজেলার সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আনসার উদ্দিনকেও প্রকাশ্যে মারধর করেন চেয়ারম্যান শাহিন। ওই ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন।
আল আমিন শিকদার কনকদিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী। তিনি ওই ইউনিয়নের ঝিলনা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক শিকদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন শুরু হয়। ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন চার জন স্বাস্থ্যকর্মী ও একজন সুপার ভাইজার৷ গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ না বুঝে অনলাইন আবেদনের স্লিপ ছাড়াই শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে টিকা নিতে ভিড় করেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রত্যেককে অনলাইন আবেদন করতে সহযোগিতা করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইডি কার্ড রেখে অনলাইন আবেদন ছাড়া টিকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। তিনি ইউনিয়ন পরিষদে এসে স্বাস্থ্যকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে আল আমিন নামের ওই স্বাস্থ্যকর্মীকে চড়-থাপ্পড় মারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ‘চেয়ারম্যান এসে বিষয়টি জানতে চাইলে আমরা তাকে বুঝিয়ে বলতে পারতাম। কিন্তু তিনি আমাদের কোনও কথা না শুনে তুই-তোকারি করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। আমাদের আরেকজন স্বাস্থ্যকর্মীকে থাপ্পড় মারেন। আমরা বিষয়টি উপরস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’
স্বাস্থ্যকর্মী আল-আমিন শিকদার বলেন, ‘ঘটনার সময় কর্তব্যরত পুলিশ দর্শকের ভূমিকায় ছিল। তারা চেয়ারম্যানকে নিবৃত করেনি। ’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মী আল আমিন শিকদার ভ্যাকসিন কার্যক্রম শেষ করে আমাকে রাতে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমরা এ ব্যাপারে সরকারি বিধি অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেবো।’
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার বলেন, ‘নিজেদের দোষ ঢাকতে তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। টিকা দিতে এসে স্বাস্থ্যকর্মীরা স্বজনপ্রীতি করছেন। এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে প্রতিবাদ করেছি। আমার সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। কাউকে মারধর কিংবা গালাগালি করিনি।’
আরও খবর:
কিশোরীকে বিয়ে করা সেই চেয়ারম্যানের স্থায়ী বরখাস্ত চেয়ে আইনি নোটিশ
সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে করা চেয়ারম্যানের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
প্রেমের সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে করলেন ৬০ বছরের চেয়ারম্যান