পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার নৌপথে গত পাঁচ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ চলছে। জানা গেছে, এখন এ নৌপথের যাত্রীদের পারাপারের একমাত্র উপায় ৮৬টি লঞ্চ। তাই কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) লঞ্চ সার্ভিস চালু রেখেছে।
শিমুলিয়া নদী বন্দরের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক, সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহাদাত হোসেন রবিবার জানান, লঞ্চ চলাচলে ঝুঁকি কিছুটা আছে। তবে যাত্রী পারাপারের জন্য সেগুলো চালু রাখা হয়েছে। চালকরা জানিয়েছেন, কিছুটা কষ্ট হলেও তারা চালিয়ে যেতে পারবেন। আর যদি না পারেন তখন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফেরিগুলো পুরনো আমলের ও আকারে লঞ্চগুলোর চাইতে বেশ বড়। তাই হয়তো চালকরা স্রোতের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। সে কারণে পদ্মা সেতুর পিলারে একাধিকবার ধাক্কা লেগেছে। বাংলাবাজার ঘাট থেকে শিমুলিয়া ঘাটে আসার পথে ফেরিগুলো যেন নদীর আপস্ট্রিমে তিন কিলোমিটার গিয়ে তারপর দূর থেকে সোজা হয়ে এসে পদ্মা সেতু অতিক্রম করে সেজন্য নদীতে বয়া স্থাপন করে দিয়েছিলাম। কিন্তু, তারপরেও এত তীব্র স্রোতে ফেরি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। তবে, লঞ্চগুলো আকারে অনেক ছোট। প্রস্থে ২২ ফুটের বেশি নয়। সেগুলো পদ্মা সেতুর দুই পিলারের মধ্যে যে প্রায় সাড়ে চারশ’ ফুট দূরত্ব তার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।’ রবিবার সারাদিন ৮৬টি লঞ্চ চলেছে বলে জানান তিনি।
গত বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি)। শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. ফয়সাল জানান, এ নৌপথে এখন পাঁচটি ছোট ফেরি আছে। তবে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ঘাটে এখন কোনও যান নেই। কোনও যান আসেও না। যদি মাঝেমাঝে দুই-একটি যান চলে আসে তবে তা ফেরি বন্ধ দেখে ফিরে যায়।
কবে নাগাদ ফেরি চালু হতে পারে তা নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।