উত্তরবঙ্গে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট

এলপি গ্যাস

দুইটি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ বন্ধ রাখায় বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ১৪ জেলায় এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দ্বিগুণ দাম দিয়েও গ্যাস মিলছে না। রাজশাহী বিভাগীয় এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সোমবার বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছেন। সমিতির নেতাদের অভিযোগ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দিতেই এ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সূত্র জানান, উত্তরাঞ্চলের (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) ১৬ জেলার প্রায় ৯০০ জন ও শুধু বগুড়ায় ২৫০ জন ডিলার রয়েছে। এর মধ্যে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের ডিলাররা বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে গ্যাস সংগ্রহ করেন। বগুড়াসহ অন্য ১৪ জেলার ডিলাররা বগুড়ার লিচুতলায় স্থাপিত ডিপো থেকে গ্যাস নিয়ে থাকেন।

উত্তরাঞ্চলের দু’বিভাগের জেলাগুলোতে মাসে কমপক্ষে দুই লাখ সিলিন্ডার প্রয়োজন হলেও বগুড়া ও বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে দেওয়া হয় মাত্র ২০ হাজার। এরপরও গত দুই মাস থেকে যমুনা ও মেঘনা অয়েল প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। পদ্মা অয়েল প্রতিষ্ঠান মাসে মাত্র আড়াই হাজার সিলিন্ডার দিচ্ছে। ফলে ১৪ জেলায় সরকারি এলপি গ্যাসের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ৭২০ টাকা মূল্যের সিলিণ্ডার দ্বিগুণ দামেও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অধিক দরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানর গ্যাস কিনতে হচ্ছে। বিপুলরাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রশিদ ডাবলু জানান, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ১৯৯০ সাল থেকে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ থাকায় সেখানে সিলিন্ডার গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে ওইসব জেলার ডিলারদের মাধ্যমে বগুড়াসহ ১৪ জেলায় গ্যাস সিলিন্ডার কালোবাজারে চলে আসে।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের কিছু স্বার্থান্বেষী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যোগসাজসে যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম প্রতিষ্ঠান উত্তরাঞ্চলে বরাদ্দ অধিকাংশ গ্যাস বাঘাবাড়ি ডিপোতে পাঠাচ্ছে। এতে বগুড়া ডিপোর আওতাধানী ১৪ জেলায় গ্যাসের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে এবং মৌখিকভাবে জানালেও তারা ত্রুটিপূর্ণ ও কম গ্যাস থাকা সিলিন্ডার না নেওয়াসহ নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে গত সোমবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অন্যথায় ডিলাররা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। ভোক্তারাও এ সংকট নিরসনে বিপিসি’র জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

/জেবি/এইচকে/