অবিরাম বৃষ্টি আর ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী ১৫টি চরাঞ্চলের গ্রাম তৃতীয় বারের প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত মাইকিং করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও উজানে গঙ্গাচড়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কোলকোন্দ, লক্ষ্মীটারী, আলমবিদিতর, গজঘণ্টা ও মর্নেয়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর দেড় থেকে আড়াই ফুট পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে বহু মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছেন। পানির প্রবল তোড়ে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কোলকোন্দ ইউনিয়নের চর শংকরদাহ, বাগেরহাট, ইছলী মটুকপুর গ্রামে। সেখানে প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাদী নিজেই মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিটি বাড়িতে দুই থেকে তিন ফুট পানি ওঠায় অনেক পরিবার গরু-ছাগল ও মালামালসহ নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে বলে চেয়ারম্যান জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন, তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ভাটিতে, বিশেষ করে, গঙ্গাচড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল লক্ষ্মীটারী এবং কাউনিয়ায় পানি বৃদ্ধি পায়।
এদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তসলিমা বেগম জানান, দফায় দফায় বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দু দফায় চালসহ শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।