পুলিশ পাহারায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফাইন্যান্স কমিটির (এফসি) মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স কক্ষে এই মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিটিং চলাকালে প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকে এবং প্রশাসন ভবন সংলগ্ন লিচুবাগানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এর আগে দুই দফা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাধার মুখে মিটিং পণ্ড হওয়ায় এ দিন বেশ সতর্ক ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশেও ছিল বেশ কড়াকড়ি। তালা ঝুলানো ছিল প্রধান ফটকে। তবে প্রশাসন ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। এ সময় তাদের সঙ্গে বহিরাগতরাও ছিল। তবে অন্যদিনের তুলনায় ক্যাম্পাসে অ্যাডহকে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল কম।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে ফাইন্যান্স কমিটি ডাকে বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের নেতৃত্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সেই সময় চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের বাধার মুখে তা স্থগিত করতে হয়। পরবর্তী সময়ে সদ্যবিদায়ী উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা রুটিন উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ায় পর ফের এফসি মিটিং ডাকেন। এবার অ্যাডহকে নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাধার মুখে নিয়োগ স্থগিত করা হয়।
পরিবহন মার্কেটের দোকানি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মিটিংকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সমস্যা হতে পারে– এই আশঙ্কা থেকে প্রক্টর লিয়াকত আলী তাদের দোকান বন্ধ রাখতে বলেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর লিয়াকত আলী কথা বলতে রাজি হননি।
ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের বিষয়ে মতিহার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি মিটিং ডেকেছিল। সেখানে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা ছিল। যাতে বাইরে থেকে কোনও ধরনের সমস্যা না হয় সে জন্য আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখেছি এর আগে দুই বার এফসি মিটিং কল করে পরে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। সেই জায়গা থেকে আমরা সর্তক অবস্থানে ছিলাম, যাতে কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।’