কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার সুবর্ণপুর গ্রামে শ্বশুর-শাশুড়িকে হাত-পা বেঁধে কম্বল চেপে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় গৃহবধূ নাজমুন নাহার চৌধুরীসহ তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক নুসরাত জাহান ঊর্মির আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। পরে বিচারক তাদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিহতরা হলেন–সুবর্ণপুর গ্রামের পল্লি চিকিৎসক সৈয়দ বিল্লাল হোসেন এবং তার স্ত্রী সফুরা খাতুন।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রাজীব চক্রবর্তী আদালত চত্বরে বলেন, ‘বিকাল ৫টার দিকে আদালতে জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়। প্রথমে জবানবন্দি দেন নাজমুন নাহার চৌধুরী। এরপর নাজমুনের খালাতো ভাই মো. জহিরুল ইসলাম মজুমদার জবানবন্দি দেন। সর্বশেষ জবানবন্দি দেন জহিরুলের বন্ধু ও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী মো. মেহেদী হাসান। রাত ৮টা ২০ মিনিটে ওই জবানবন্দি শেষ হয়। টানা তিন ঘণ্টা ২০ মিনিটের ওই জবানবন্দিতে আসামিরা পুরো হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। এতে তারা সব অপরাধ স্বীকার করেন।’
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কাজী মো. আবদুর রহীম আসামিদের গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে হত্যার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘নিহত সৈয়দ বিল্লাল হোসেনের বড় ছেলে দুবাই প্রবাসী সৈয়দ আমান উল্লাহর স্ত্রী নাজমুন নাহার চৌধুরী শিউলি একাধিক প্রেম করতেন। এসব বিষয় ও পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করেছে।’